নড়াইল-২

কে হচ্ছেন মাশরাফির প্রতিদ্বন্দ্বী

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল-২ (সদর) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে ক্রিকেট তারকা মাশরাফির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মাশরাফির পক্ষে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণা শুরু হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ তাকে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।

আ.লীগ, যুবলীগ ও যুব মহিলা লীগের আয়োজনে সদর ও লোহাগড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে মাশরাফির জন্য ভোট চেয়ে উঠান বৈঠক, নির্বাচনী প্রস্তুতি সভা, কমিটি গঠন ও মিছিল বের হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এ আসনে কে প্রার্থী হচ্ছেন? বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ফেসবুকে মাশরাফির প্রার্র্থিতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করায় সবার মধ্যে এ বিষয়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছিল। গত মঙ্গলবার আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক যোগাযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টির বর্তমান এমপি শেখ হাফিজুর রহমান নড়াইল-২ আসনটি ছাড় দেওয়ায় এ আসন থেকে মাশরাফি নির্বাচন করবে। এদিকে এ আসনে আ.লীগের মনোনয়ন পেতে মোট ১৭ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দেন।

নড়াইল পৌর মেয়র ও জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, সদর উপজেলা সাধারন সম্পাদক এ্যাড. ওমর ফারুক, লোহাগড়া উপজেলা সম্পাদক এবং লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমীর লিটু, সভাপতি সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, পৌর সভাপতি ও জেলা সম্মিলতি সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ড,ু লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জোসেফ মুন্সি, সম্পাদক রাসেদ হাসানসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ একবাক্যে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। ক্রিকেট তারকা মাশরাফি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি এবং নড়াইলের গর্বিত সন্তান। এছাড়া নড়াইলে সে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। মাশরাফি এমপি নির্বাচিত হলে অবহেলিত নড়াইল জেলার উন্নয়ন তরান্বিত হবে। নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সভা ও কমিটি গঠন করার কথা জানিয়ে বলেন, তাকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করার চেষ্টা করা হবে। এদিকে মাশরাফি নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নড়াইলের সামাজিক-সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাধারন মানুষ ও তরুণ সমাজ অভিনন্দন জানিয়েন।

মাশরাফি এখনো নড়াইলে আসেনি। জানাগেছে আগামি ২৭ নভেম্বর তিনি এলাকায় আসবেন এবং মনোনয়ন পত্র জামা দেবেন। তবে ঢাকাতে ওয়েষ্ট ই-িজের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলার জন্য তার নড়াইলে অবস্থান না করার সম্ভবনা রয়েছে। সাধারন মানুষ ইচ্ছা মাশরাফির এখন নড়াইলে থেকে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী প্রচার শুরু করা।

এদিকে আসনটিতে কে হচ্ছেন মাশরাফির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ? এ নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা ও আলোচনা। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোট তথা ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী, না বিএপির কেউ মাশরাফির প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হচ্ছেন এ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে তুমুল আলোচনা চলছে। আজ হয়তো সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নড়াইল-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপত্র কিনেছেন- জেলা সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মনিরুল ইসলামসহ ৭জন এবং ২০ দলীয় জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ মনোনয়নপত্র ক্রয় ও জমা দিয়েছেন। বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছেন, এ দুজনের থেকে একজনের মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশী। এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সম্পাদক এস এম নাসির উদ্দীন এবং এনপিপির (ছালু) জেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম নিজ দলের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

আসনটি লোহাগড়া পৌরসভা এবং সদরের ৮টি ও লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। আওয়মী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে বরাবরই ভালো ফলাফল করে আসছে। ১৯৭০, ৭৩, ৯১, ৯৬, ২০০১, ২০০৮ এবং ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে এ আসনে নৌকা প্রতীক জয়লাভ করে। এছাড়া ৮৬ ও ৮৮ সালে জাতীয় পার্টি এবং ৭৯, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী এবং ২০০১-এর উপ-নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে।

"