ফরিদপুরে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ

* বাম্পার ফলন আসা করছে কৃষি বিভাগ * পেঁয়াজ আমদানি না করার দাবি চাষিদের

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কে এম রুবেল, ফরিদপুর

ফরিদপুর জেলায় চলতি রবি মৌসুমে চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপেক্ষাকৃত উঁচু জমিতে কার্তিক মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না এলে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। নতুন পেঁয়াজ ওঠার সময় বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করার আহ্বান চাষিদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জেলার চরাঞ্চলের চাষিরা এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্তসময় পার করছেন। পেঁয়াজ আবাদে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এর চাষ। উন্নত জাত এবং মানসম্পন্ন পেঁয়াজ উৎপাদনের জন্য এ জেলা দেশের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বাম্পার ফলন আসা করছে চাষীরা। চাষিরা এখন ব্যস্ত পেঁয়াজের বীজ রোপণ, পেঁয়াজ খেতে পরিচর্যার কাজে। জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। মুড়িকাটা পেঁয়াজ, হালি পেঁয়াজ ও দানা পেঁয়াজ।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর জেলায় ৩৫হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে। এখন চলছে মুড়িকাঠা পেয়াজের আবাদ। ইতোমধ্যেই প্রায় ছয় হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এখনও চরছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। কৃষক মো. বক্তার হোসেন খান বলেন, বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উঁচু জমিতে আমরা মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেছি। আসা করছি ফলন ভালো পাব। গত বছর পেঁয়াজের ভালো দাম পেয়েছিলাম। আর সে জন্য চলতি বছর আরো বেশি জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ করেছি। আর কয়েক দিন পরই তা তুলতে পারব। আমাদের পেঁয়াজ যখন উঠবে, তখন যেন সরকার বাহির (বিদেশ) থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করে। বাহির থেকে পেঁয়াজ আমদানি না করলে আমরা লাভবান হব। সদর উপজেলার কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. আবুল বাসার মিয়া বলেন, ‘জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে সদর উপজেলার চরাঞ্জলের চাষীরা ব্যাপক হারে মুড়িকাটা পেয়াজের আবাদ করেছে। আর কৃষি বিভাগ চাষীদের পেঁয়াজ উৎপাদনে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন প্রকার সহযোগিতা করা হয়েছে। আসা করছি উৎপাদন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর আগাম পেঁয়াজের দাম সবসময় ভাল পাওয়া যায়। আমরা আসা করছি লক্ষ্যমাত্র ছাড়িয়ে যাবে।’

কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলায় তিন ধরনের পেঁয়াজ আবাদ হয়ে থাকে। এখন চলছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের আবাদ। কিছুদিন পর শুরু হবে দানা পেঁয়াজের আবাদ এবং ডিসেম্বরের মাঝা মাঝি সময়ে শুরু হবে হালিপেঁয়াজের আবাদ। পেঁয়াজ আবাদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রনোদনা, প্রশিক্ষণসহ সবধরনের সহযোগিতা করা হয়।’

"