রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

মির্জাগঞ্জে লাইন্সেসবিহীন গ্যাস সিলিন্ডারের রমরমা ব্যবসা

প্রকাশ : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের সর্বত্র চলছে এলপি গ্যাসের রমরমা ব্যবসা। বিস্ফোরক অধিদফতরের লাইসেন্স ও অত্যাবশকীয় সরঞ্জামাদি ছাড়াই ক্রোকারিজ, মুদি মনোহরি, ডিজিটাল স্টুডিও, টেলিকম, কনফেকশনারি ও সেলুনের দোকানসহ বিভিন্ন দোকানে বিত্রি হচ্ছে এসব সিলিন্ডার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন দোকানের সামনে শোভা পাচ্ছে সারি সারি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের বোতল। কিন্তু এসব দোকানে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স তো দূরের কথা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্ররও নেই। ফলে যেকোনো সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। এলপি গ্যাস প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর ডিলাররা বিস্ফোরক অধিদপ্তরের সনদ নিলেও খুচরা বিক্রেতারা সিলিন্ডার মজুদ ও বিক্রির কোনো আইন অনুসরণ করছেন না। ব্যবসা পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সাধারন ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করলেও আইনানুযায়ী ১০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করনের জন্য আবশ্যকীয় সনদও তাদের নেই। আর লাইসেন্স না থাকায় সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার সুবিদখালী বাজার, ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) মাজার সংলগ্ন মহাসড়কের বাজার, থানা সংলগ্ন বাজার, পায়রাকুঞ্জ ফেরীঘাট, মহিষকাটা বাজার, আমড়াগাছিয়া পুলের হাট বাজার, নিউ মার্কেট বাজার, গোলখালী বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজাররের বিভিন্ন দোকানের মালিকরা আইনের তোয়াক্কা না করে দোকানের সামনে সারি সারি গ্যাস সিলিন্ডার বোতল সাজিয়ে রাখেন এবং গুদামে গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। খুচরা এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ ব্যবসায়ী সিলিন্ডার বিক্রির আইনগত বাধ্যবাধগতা সম্পর্কে অবগত কিন্তু লাইসেন্স প্রাপ্তির দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে এবং বিভিন্ন কোম্পানী ডিলারদের বিপণণ কৌশলে প্ররোচিত হয়েও তারা আইন অনুসরন থেকে পিছিয়ে আছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করে বলেন, ফায়ার সার্ভিস লাইসেন্স নিতে সরকারী নিয়মানুযায়ী ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিলেও বাড়তি টাকা ছাড়া লাইসেন্স প্রাপ্তিতে দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

জেলা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. গোলাম সারওয়ার বলেন, ‘সরকারি বিধি মোতাবেক এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কমপক্ষে পাকা মেঝেসহ আধাপাকা ঘর থাকা প্রয়োজন। ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক সক্ষমতা সংক্রান্ত লাইসেন্সসহ অগ্নিনির্বাপন সিলিন্ডার (ফায়ার এস্টিংগুইসার), মজবুত ও ঝুঁকিমুক্ত সংরক্ষনাগার থাকতে হবে। অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপন আইন ২০০৩ সালের সংশোধিত আইনে স্পষ্ট শর্ত হচ্ছে-দোকান শুরুর পূর্বেই বিক্রেতাকে ফায়ার সার্ভিস থেকে লাইসেন্স গ্রহন করতে হবে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না।’

এ ব্যাপারে ফায়ার সার্ভিসের পটুয়াখালী, বরিশাল ও ভোলা জেলার দায়িত্বে থাকা ফায়ার ইন্সপেক্টর মো. সিরাজুল হক মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক ড্রাফট জমা দিলে লাইসেন্স পেতে কোন দূর্ভোগ পোহাতে হয় না। সরকারের সংযোজিত ভ্যাট দেয়াকে অনেক ব্যবসায়ী বাড়তি টাকা মনে করেন। খুব শীঘ্রই আমরা এ উপজেলায় লাইসেন্স যাচাই-বাছাই এবং যাদের লাইসেন্স নেই তাদেরকে লাইসেন্স করার জন্য নোটিশ প্রদান করা হবে।’

ইউএনও মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘বিক্রেতাদের লাইসেন্স না থাকায় সরকার বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে। তাই যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির ব্যাপারে শিগগিরই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হবে।’

"