কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সরকারি জমি

৬ বার উচ্ছেদের পর ফের দখল

প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মহসীন শেখ, কক্সবাজার

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের তরঙ্গ রেস্তোরাঁর পাশে ঝাউগাছ কেটে কোটি টাকার সরকারি জমিতে ৬ বার উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও ফের দখলের অভিযোগ উঠেছে। মাটি ভরাট করে সেই জায়গায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

জানা যায়, গত দেড় বছর ধরে এই জমি দখল করে ‘হাঁড়ি’ নামের একটি রেস্তোঁরা নির্মাণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে একটি ভূমিদস্যু চক্র। পৃথক অভিযানে ইউএনও, এসিল্যান্ড ও জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ভূমিটি দখলমুক্ত করলেও অভিযান শেষে আবারো বেদখল হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর বুলডোজার দিয়ে ৬ষ্ঠ বারের মত নির্মাণাধীন স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় প্রশাসন। বুলডোজার লাগিয়ে উচ্ছেদ করার এক সপ্তাহ পর আবারও ভূমিদস্যুরা ওই জমি দখল করে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত দেড় বছরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৬ বার উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কোন এক অদৃশ্য ক্ষমতার ইশারায় সেই জমি আবার বেদখল হয়ে যাচ্ছে।’ তিনি জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঝাউগাছ রক্ষায় এই জমি ঘেরাও দেয়া হয়েছিল।

জানা যায়, জমিটি দখল করে নেওয়ার আগে অনেক ঝাউগাছ থাকলেও ভূমিদস্যুরা দখল করার পর সেগুলো কেটে ফেলে। অভিযানের সময় অবৈধভাবে কাটা বেশ কয়েকটি ঝাউগাছ জব্দ করেছিল বনবিভাগ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মামলা চলাকালীন সময়েই আবারো অসংখ্যা ঝাউগাছ কেটে ভূমিটি দখল করা হয়েছে।

জানা যায়, জমিটি দখলের দায়ে কলাতলী এলাকার নুর মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাকে লঘুদন্ড দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাকে আবারে আটক করা হয়। জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ বলেন, উচ্ছেদের পর তারা গোপনে আবারও দখল করতে পারে। আবারও অভিযান চালানো হবে। সরকারি জমিটি রক্ষা করার জন্য স্থায়ী কোন উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান নাজিম উদ্দিন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন বলেন, উচ্ছেদের পর সরকারি জমিতে আবারও স্থাপনা তৈরির সুযোগ নেই। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় সরকারের ১নং খাস খতিয়ানের ১৩০ একর জমির মধ্যে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর ৮৭টি প্লটের বিপরীতে ৮৬.৩১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। আর ওই বরাদ্দের মধ্যে সৈকত সড়কের সুগন্ধা পয়েন্টে তরঙ্গ রেস্তোঁরার পাশে এস. আলম গ্রুপের নামে প্লট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু ২০১০ সালে সরকার এসব প্লটের বরাদ্দ বাতিল করে লাল পতাকা দিয়ে সরকারের আয়ত্ত্বে নেয়।

"