৮ বছরের চার বছরই মেডিকেল ছুটিতে শিক্ষক

প্রকাশ : ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মেহেরপুর প্রতিনিধি

স্কুলের সহকারি শিক্ষক হিসেবে আট বছর চাকরিকালে দুই বছর অনিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন শেষে সাড়ে ৩ বছর মেডিকেল ছুটিতে আছেন মুনমুন চৌধুরী নামের এক শিক্ষক। প্রকৃত অসুস্থ কিনা জানতে জেলা শিক্ষা অফিস সিভিল সার্জনকে প্রধান করে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করে। সেখানে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ডাকা হলেও সেই মেডিকেল বোর্ডেও হাজির হচ্ছেন না তিনি। ৮ মার্চ ২০১০ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত বেতনসহ সরকারি সব সুযোগ সুবিধা ভোগ করেছেন। সহকারী শিক্ষক মুনমুন চৌধুরী জেলা প্রশাসনের সরকারি এক কর্মকর্তার স্ত্রী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেকটর (এনডিসি) আমিনুল ইসলাম মেহেরপুর কালেকটরে যোগদান করেন ২০১০ সালে। এরপর তার স্ত্রী মুনমুন চৌধুরীকে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। মুনমুন ২০১০ সালের ৮ এপ্রিল যোগদান করেন। এনডিসি ২০১৩ সালে জেলা শহরের উপকণ্ঠে রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডেপুটেশনে নিয়ে আসেন মুনমুনকে। এখানেও তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেননি। কিন্তু জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তার স্ত্রী হওয়ার কারণে জেলা শিক্ষা বিভাগের কোন কর্মকর্তা ও কোন স্কুলের শিক্ষকই তার বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেননি। মুনমুনের স্বামী ২০১৫ সালে মেহেরপুর থেকে বরিশাল বদলি হবার পর থেকে মুনমুন এ পর্যন্ত মেডিকেল ছুটিতে আছেন।

কেদারগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপিকা খাতুন ও রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নার্গিস পারভিন বলেন, বর্তমানে তিনি (মুনমুন চৌধুরী) বেতন ছাড়া মেডিকেল ছুটিতে আছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মুজিবনগর উপজেলা শিক্ষা অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হওয়ার কারণে মুনমুন কাগজে কলমে দায়িত্ব পালন করলেও বাস্তবে বিপরীত চিত্র।

এ প্রসঙ্গে জেলা শিক্ষা অফিসার জেছের আলী জানান, ২০১৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত মুনমুন মেডিকেল ছুটিতে আছেন। ২০১৭ সালের জুলাই থেকে বেতন ছাড়া মেডিকেল ছুটিতে আছেন। দীর্ঘদিন মেডিকেল ছুটিতে থাকার কারণে সিভিল সার্জনকে প্রধান করে একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। গত ২৯ অক্টোবর মেডিকেল বোর্ডে হাজির হতে বলা হয়েছিল অভিযুক্ত শিক্ষককে। কিন্তু তিনি ওইদিন মেডিকেল বোর্ডে হাজির হননি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

"