গুরুদাসপুরে ১৫ বিলের পানি আটকে মাছ শিকার

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের গুরুদাসপুরে ১৫ বিলের পানি আটকে মাছ শিকার করার অভিযোগ উঠেছে লিয়াকত আলী ও লিটন সরদার নামে দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সময়মত বিলের পানি নামতে না পারায় ৫ হাজার হেক্টর আমন খেতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে রবি শস্য আবাদ ব্যহত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে চলমান এ সমস্যার সমাধান চেয়ে এলাকার ভুক্তভোগী শতাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

ভুক্তভোগী কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চাকলবিল, টেংড়াগাড়ি বিলের মাঝে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৮০ একর জলাভূমি রয়েছে। গত ১ মার্চ সোনাবাজু গ্রামের লিয়াকত আলী ও লিটন সরদার এক বছর মেয়াদে ৩৮ লাখ টাকায় বিলের উম্মুক্ত ওই জলাশয় ইজারা নেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে।

এখন বর্ষার পানি নামতে শুরু করায় ইজারা গ্রহনকারীরা বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ তুলসীগঙ্গা নদী জুড়ে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছেন। নদীর সিধুলী পশ্চিমপাড়া ব্রীজ সংলগ্ন জায়গায় ওই বাঁধটি স্থাপন করা হয়েছে। একারনে পানি দ্রুত নামতে পারছেনা। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

ওবায়দুল হক, মনিরুল, আব্দুল খালেক, জাহিদুল ইসলামসহ অন্তত ২০ জন কৃষক অভিযোগ করে বলেন- চাকলবিল, টেংড়াগাড়িবিল ছাড়াও আশপাশে কৈগাড়ীবিল, বড়বিল, খলিশাগাড়ী, সমাজগাড়ী, জোলাগাড়ী, কাঁকড়াগাড়ীবলসহ ১৫টি জলাশয়ের পানি তুলসীগঙ্গা নদী দিয়ে ভাটির দিকে নেমে যায়। কিন্তু ইজারা গ্রহনকারীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মাছ শিকার করায় মাঠের পর মাঠ আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তাছাড়া সময়মত পানি নামতে না পারায় বিনাহালে রসুনসহ রবিশষ্য আবাদ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।

ধারাবারিষা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, ‘তার পরিষদ এলাকার তুলশীগঙ্গা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করার কারনে এলাকার কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। এমন অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কৃষি অফিস সুত্রে জানাগেছে, ইজারা গ্রহনকারীরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছেনা। তুলসীগঙ্গা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করায় বিল এলাকার কমপক্ষে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। উঠতি আমন ধান কাটা এবং সংগ্রহ করা যাচ্ছেনা। রবিশষ্য আবাদ ব্যহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সৈয়দ জানান, চাকল বিল এবং টেংড়াগাড়ি বিলের ৮০ একর জলাশায় স্থানীয় মৎস্য চাষীদের কাছে মাছ চাষের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছে। তুলশীগঙ্গা নদী ইজারা দেওয়া হয়নি। কৃষি ও কৃষকের ক্ষতি হলে স্থানীয় প্রশাসন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিবেন।

ইউএনও মোহাম্মদ মনির হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘কৃষি বিভাগকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। তারা ব্যর্থ হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

এ বিষয়ে ইজারা গ্রহিতা লিটন সরদার বলেন, ‘চাকলবিল ও টেংড়াগাড়ি বিলের পানি তুলসীগঙ্গা নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানির সঙ্গে মাছও চলে যায়। বাধ্য হয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরতে হচ্ছে। কৃষকের ক্ষতির বিষয়টি তাদের জানার বাইরে।’

 

"