রাজনীতির মাঠে নেই, তবু মনোনয়ন কেনার হিড়িক

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দুই দলে মনোনয়ন কেনার হিড়িক পড়েছে। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় কোন ভূমিকা না থাকলেও মনোনয়ন কেনার ব্যাপারে অতি উৎসাহী হয়েছেন রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী। এবারই প্রথম এ আসন থেকে ১৪ জন প্রার্থী আওয়ামী লীগের ও ১৮ জন বিএনপি প্রার্থী মনোনয়ন ফরম কিনেছেন। এবার রেকর্ডসংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন কিনলেও বিগত সময়ে রাজনীতির মাঠে হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিদের মাঠে দেখা যাইনি। এমনকি উপজেলার ৬ ইউনিয়নের বিএনপি সভাপতি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। আর আওয়ামী লীগ থেকে স্বামী-স্ত্রী একই সঙ্গে মনোনয়ন কেনা হাসির খোরাপ হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আ.লীগ স¤পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা ও সংরক্ষিত মহিলা এমপি অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বাবলী। অথচ স্থানীয়ভাবে তাদের কোনো পরিচিতি, প্রচার-প্রচারণা ও কোনো গণসংযোগ নেই। বিষয়টি স্থানীয়দের হাসির খোরাক জুগিয়েছে। এ ছাড়াও মনোনয়ন কিনেছেন উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সামসুল ইসলাম ভুইয়া ও তার সহধমিণনী অধ্যক্ষ শিরিন বেগম। অথচ নির্বাচনী মাঠে প্রচার-প্রচারণায় তাদের কখনো দেখা যায়নি। দম্পতির এই মনোনয়ন কেনাকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে চলছে কূট-আলোচনা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য এ্যাড. নুরজাহান তফসিল ঘোষণার সপ্তাহ খানেক পূর্বে নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে মাঠে নামেন। হঠাৎ করে তিনি নিজেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ঘোষনা দিলেও, ইতিপূর্বে তাকে অন্যমনোনয়ন প্রত্যাশীদের গণসংযোগে অংশ নিতে দেখা গেছে। জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক স¤পাদক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন মনোনয়ন ফর্ম কেনার আগে পর্যন্ত নিজেকে এ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে ঘোষণা দেননি। তবে বিভিন্ন দিবসে কিছু ব্যানার ও পোস্টার লাগিয়ে নির্বাচনী এলাকায় নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। একই ভাবে আ.লীগের মনোনয়ন ফর্ম কিনেছেন মোগরাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি কখনো ঘোষণা দেননি, চালাননি প্রচার-প্রচারনাও। মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহকারী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নুও নিজেকে কখনো প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেননি।

এই সব মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাড়াও সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মাহফুজুর রহমান কালাম, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-স¤পাদক এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, জেলা আ.লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও বাংলাদেশ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সাংগঠনিক স¤পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু এবং কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-স¤পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের শিক্ষা স¤পাদক ড. সেলিনা আক্তার কমবেশী নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রচার-প্রচারনায় কাজ করেছেন।

তাছাড়া মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নিজেদেরকে ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে দেখা যায়নি ইঞ্জি. সফিকুল ইসলাম, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আনোয়ারুল কবির ও শিল্পপতি বজলুর রহমানকে।

এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ আসনে বিএনপির ১৮ প্রার্থী মনোনয়ন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ আসনে এবারই প্রথম বিএনপি থেকে রেকর্ড সংখ্যক মনোনয়ন প্রার্থী মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেছেন। মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম মান্নান, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-স¤পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, যুব অধিদপ্তরের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান আপেল, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, নারায়ণগঞ্জ মহানগরে সেক্রেটারী এটিএম কামাল, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক স¤পাদক জিয়াউর রহমান চয়ন, যুগ্ম-স¤পাদক শহিদুল ইসলাম স্বপন, জেলা ছাত্রদলের স¤পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি রিয়াজউদ্দিন রিয়াজ, সাংগঠনিক স¤পাদক নজরুল ইসলাম টিটু, কাঁচপুর ইউনিয়র বিএনপির সভাপতি হাজী সেলিম হক রুমী, সাদিপুর ইউপি সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুম, বৈদ্যেরবাজার ইউপি সভাপতি তাইজুল সরকার, শম্ভুপুরা ইউপি সভাপতি জাহাঙ্গীর, বারদী ইউপি সভাপতি আলী আজগর ও জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল-মুজাহিদ মল্লিক।

 

 

"