নাগরপুরে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ

নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ইটভাটা নির্মাণ

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

নাগরপুর উপজেলা এখন ইটভাটার নগরীতে পরিণত হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষের বসবাসকারী এ এলাকাতে গড়ে উঠেছে প্রায় ২২টি ইটের ভাটা। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গড়ে উঠা এসব ইটভাটা স¦-মহিমায় মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে আছে। অবৈধভাবে গড়ে উঠা এসব ভাটার কালো বিষাক্ত ধোয়ায় স্বাস্থ্য ঝুকিতে উপজেলার লাখ লাখ মানুষ। বেড়ে চলেছে বিভিন্ন ধরনের চর্ম রোগ, শ্বাস কষ্ট ও ক্যান্সারের মত মহামারি ব্যাধি। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে গর্ভধারণ, বাধাগ্রস্থ হচ্ছে শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে উঠা। মানুষের পাশাপাশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে গৃহপালিত পশু-পাখি। এছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে গড়ে উঠা ভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন মৌসুমী ফল। অথচ উপজেলার শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। প্রতিটি পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ধান, গম, পাট ও অন্যান্য রবি শস্য।

এছাড়া অনেকেই বরই, আম ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। ইটের ভাটার প্রধান কাঁচা মাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় মাটি। ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেঁটে ইটের ভাটায় বিক্রি করছে এক শ্রেণির অসাধূ মাটি ব্যবসায়ী। ভাটার কাঁচামালের যোগান দিতে ফসলি জমির টপ সয়েল বা উর্বর মাটি কেটে ফেলায় চাষাবাদের জমি অনুর্বর হয়ে পড়ছে। আর এ মাটি পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে ট্্রলি বা ট্রাক্টর। অনুমোদনহীন এ সব ট্্রাক্টরের কারণে বিঘিœত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দূর্ঘটনা। তাছাড়া এ সকল ভাটায় কয়লা পোড়ানোর নিয়ম থাকলেও তারা আইনের তোয়াক্কা না করে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে কাঠ। ফলে উজার হচ্ছে বনভূমি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেলেও থামেনি নতুন ইটভাটা নির্মাণ কাজ । প্রতি বছরই ভাটা তৈরী করছে এলাকার একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা। যে যত প্রভাবশালী তার ইটের ভাটার পরিমাণ তত বেশী। নাগরপুরবাসী নীরব মৃত্যু নিয়ে এ খেলার অবসান চায়।

এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা প.প. ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ইটভাটার কালো ধোয়ার ফলে মানুষের এজমা, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট সহ ক্যানসারের মত রোগ হতে পারে।

 

"