নেই আর ডাকবাক্সের জৌলুস হারিয়ে গেছে পত্রসাহিত্য

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি

যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে মৃত ‘পত্রসাহিত্য’ বলতে বাংলা সাহিত্যের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এখন দূরবর্তী স্বজনের কাছে জরুরি বা আবেগতাড়িত কোনো চিঠি লেখার প্রচলন প্রায় উঠেই গেছে। তার বদলে মানুষের কাছে প্রিয় হয়েছে উঠেছে মুঠোফোন ও কম্পিউটারে ইন্টারনেটভিত্তিক যোগাযোগমাধ্যম। ফলে একসময়ের ডাকবাক্সের জৌলুস আর আগের মতো নেই। ডাকবাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না। এই বাস্তবতা রংপুরে বদরগঞ্জ উপজেলারও।

দ্রুততম যোগাযোগমাধ্যম এখন হাতের মুঠোয় থাকায় প্রত্যন্ত গ্রামের বধূও চিঠি লেখাকে সময় নষ্ট করা বলে মনে করেন। এভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে হাতে লিখা চিঠি আর জৌলুস ছড়ানো ডাকবাক্সের কদর। এখন ডাকবাক্সে সরকারি চিঠিপত্র ছাড়া আর কোনো চিঠিই পাওয়া যায় না। ফলে ধীরে ধীরে আবেদন হারাচ্ছে চিঠি নিয়ে রচিত আবেগতাড়িত সব গান, কবিতা, সিনেমাগুলো।

দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর ডাকবাক্সে হাতে লেখা চিঠি ফেলতে আসা অশিতিশপর প্রবীণ উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামাণিকের (৮৫) সঙ্গে। প্রতিদিনের সংবাদকে তিনি জানান, আমার নাতি ঢাকায় চাকরি করে তার কাছে চিঠি পাঠাতে এখানে এসেছি। আমি বাবা আগের মানুষ। মোবাইলে মেসেজ দিতে পারি না। আর মেসেজ কিংবা মোবাইল ফোনে সব কথা বলা সম্ভব হয় না, তাই চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি। বদরগঞ্জ উপজেলা পোস্ট মাস্টার সদরুল আলম জানান, বর্তমানে পোস্ট অফিসে পার্সেল, বীমা, পরীক্ষার খাতা, সঞ্চয়পত্রের মতো কাজগুলো হচ্ছে। আগের দিনের মতো এখন আর ব্যাপকভাবে চিঠিপত্র লেনদেন আর হয় না।

 

"