৪ কর্মকর্তা দিয়েই চলছে কর্ণফুলী উপজেলার কার্যক্রম!

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মোর্শেদ নয়ন, পটিয়া-কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম)

৪০ জন কর্মকর্তার পদ থাকলেও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের কার্যক্রম চলছে মাত্র চারজন দিয়ে। এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), নির্বাচন কর্মকর্তা, মাধ্যমিক শিক্ষা ও আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা ছাড়া আর কোনো কর্মকর্তা পায়নি নতুন এই উপজেলা। আশপাশের উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এনে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চালানো হচ্ছে কর্ণফুলীর প্রশাসনিক কাজ। এতে করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মিলছে না নতুন উপজেলা করার সুফল।

এর আগে ২০১৬ সালে ৯ মে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১২তম সভায় পটিয়া উপজেলাধীন পাঁচটি ইউনিয়ন (চরলক্ষ্যা, জুলধা, চরপাথরঘাটা, বড়উঠান ও শিকলবাহা) নিয়ে দেশের ৪৯০তম উপজেলা গঠনে অনুমোদন দেন। ৫৪ দশমিক ৬০ বর্গকিলোমিটার আয়তন ও ৩ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে গঠিত এ উপজেলা। ২০১৬ সালে ১৯ জুলাই এ প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে কর্ণফুলী উপজেলার ২৪ অফিসের সেটআপের জন্য ৪০ জন কর্মকর্তা ও ১৯৮ জন কর্মচারীর অনুমোদন দেয়া হয়।

২০১৭ সালের ২৯ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী উপজেলার দাফতরিক কার্যক্রম শুরু হয়। একটি কমিউনিটি সেন্টারের তৃতীয়তলা ভাড়া নিয়ে চলছে উপজেলার কার্যক্রম। দেড় বছর অতিবাহিত হলেও ইউএনওসহ চারজন কর্মকর্তা ছাড়া বাকি কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হয়নি। কয়েকটি পদে আশপাশের উপজেলা থেকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে এনে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ চালানো হচ্ছে। এতে করে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার বাসিন্দারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদ খালি থাকায় বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কর্ণফুলী উপজেলাবাসীকে।

বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটার পরিচালক নাজিম উদ্দিন হায়দায় বলেন, কর্ণফুলীতে পাঁচ শতাধিক ডেইরি খামার রয়েছে। বিভিন্ন রোগবালাইয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য একজন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পদায়ন করা হলে উপজেলার খামারিরা খুবই উপকৃত হতো।

২০১৭ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদের প্রথম নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ফারুক চৌধুরী। সরকারিবিধি মোতাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ পাওয়ার কথা। কিন্তু তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে এক বছর পার করলেও সরকারি গাড়ি বরাদ্দ এখনো পাননি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, আমি কর্ণফুলী উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। দীর্ঘদিন ধরে জনবল শূন্য এই উপজেলা। নির্বাচনের আগে যেন জনবল নিয়োগ করা হয় সেজন্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতরে আমি চিঠি দিয়েছি। সব পদে কর্মকর্তা পদায়িত হলে উপজেলা প্রশাসনের কাজে গতি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কর্ণফুলী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক চৌধুরী বলেন, সবকয়টি প্রশাসনিক পদে জনবল পদায়ন না করার ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালানা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। উপজেলা পরিষদের সব পদে কর্মকর্তা পেতে সংশ্লিষ্ট দফতরকে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিই পরিপূর্ণ হবে উপজেলা প্রশাসন।

 

"