৭৮ নম্বর গোলাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

দুই দশকেই ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবন, একচালা তুলে পাঠদান

প্রকাশ : ১১ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রকিবুল হাসান বিশ্বাস, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ)

নির্মাণের মাত্র ২২ বছরেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৭৮ নম্বর গোলাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাকা ভবন। ভবনের ভিম ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। সেখান দিয়ে চুঁইয়ে পানি পড়ছে ক্লাসগুলোয়। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তরা খসে বেরিয়ে পড়েছে ঢালাই। ফলে শিক্ষকরা মূল ভবন বাদ দিয়ে মাঠের একপাশে টিনশেটের একচালা ঘর তুলে ক্লাস চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে কক্ষ সংকটে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একাংশ অফিসকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করছেন শিক্ষকরা। আর টিনশেটের ঘরটিতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী কষ্ট করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজের ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতির কারণে মাত্র ২০ বছরেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বলধারা ইউনিয়নের গোলাইডাঙ্গা গ্রামে ১৯৭৪ সালে আবদুল লতিফ মাস্টারের দানকৃত ৩৩ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত হয় ৭৮ নম্বর গোলাইডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৭৯ সালে বিদ্যালয়টি রেজিস্ট্রিপ্রাপ্ত হয়। এরপর ২০১৩ সালে সারা বাংলাদেশের মতো এই বিদ্যালয়টি সরকারীকরণের আওতায় আসে।

ভবন নির্মাণ সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৪ সালে শিক্ষা প্রকৌশলীর অধিদফতরের মাধ্যমে জনৈক ঠিকাদার বিদ্যালয়ের জন্য একটি পাকা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায়। আরো এক বছর কাটিয়ে কাজ শুরু করে তারা। এ সময় ব্যবহৃত ইট, বালু, খোয়া, সিমেন্টের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পিলারে রিসাইক্লিন মেটেরিয়াল নির্মিত নি¤œমানের লোহা ব্যবহার করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢালাইয়ের মিশ্রণকাজে সিমেন্ট, বালু, খোয়াও নি¤œমানের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ভবনটি মাত্র ২২ বছরের মাথায় ব্যবহারে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এলাকাবাসী জানিয়েছে, স্কুলের দেয়ালে ব্যবহৃত ইটগুলো নি¤œমানের হওয়ায় দেয়াল ও ছাদ থেকে পলেস্তার ঝরে ঝরে পড়ে যাচ্ছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, স্কুলের ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত হওয়ায় বাইরে টিনশেটের একচালা ঘরে কোনো রকম পাঠদান করে যাচ্ছি। ভবনের সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীদের অন্যত্র চলে যাচ্ছে। আমি ভবনের জন্য আবেদন করেছি, শিগগিরই নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে শিক্ষা অফিস জানিয়েছে।

জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস সুলতানা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ৫টি ভবন তালিকা করে শিক্ষা প্রকৌশলীর দফতরে পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই ভবনগুলোর নির্মাণের কাজ করা হবে বলে আশা করছি।

 

"