বর্জ্যরে বিষাক্ততায় মরে গেছে ৭ মেহগনি

কুকুর আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজু খান, ঝালকাঠি

ঝালকাঠির কয়েকটি শিক্ষা ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠনের পাশের এক জায়গা আট বছর ধরে পৌরসভার আবর্জনা ফেলে কর্তৃপক্ষ। ময়লা-আবর্জনার বিষাক্ততায় মরে গেছে ২০ বছরের পুরনো ৭টি মেহগনি গাছ। মরতে শুরু করেছে আরো কয়েকটি গাছ। বর্জ্যে গন্ধ আর বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে অতিষ্ঠ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

শহরের বেগম ফিরোজা আমু টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের জায়গায় এই আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। পরিত্যক্ত জায়গাটি ইতোপূর্বে পৌরসভার থাকলেও কয়েক বছর আগে তা কলেজ কর্তৃপক্ষকে বরাদ্দ দিয়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমী ভবনের সামনে থেকে ওয়েল ডিপোতে যাওয়ার রাস্তার পূর্ব পাশে বর্জ্য ফেলার স্থানটি এক সময় পৌরসভার থাকলেও বর্তমানে তা ফিরোজা আমু টেকনিক্যাল কলেজের অধীন। এর অদূরে রয়েছে তাবলিগ মারকাজ মসজিদ ও হেফজ খানা, সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি হরচন্দ্র বালিকা বিদ্যালয়, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পৌর মিনি পার্ক ও আবাসিক এলাকা। এই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা বর্জ্যর পাশ দিয়েই দৈনিক যাতায়াত করেন।

ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে প্রধান সমস্যা হচ্ছে জেলার সাংস্কৃতিক কেন্দ্র শিল্পকলা একাডেমি ভবনে আসা সাংস্কৃতিক কর্মী ও দর্শক-শ্রোতাদের। পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমি ভবনে পরিচালিত হয় শিশু একাডেমির প্রাকপ্রাথমিক শিক্ষায় অংশা নেওয়া শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রমে বিঘœ হয়। অপরদিকে নিকটবর্তী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও যাতায়াতে অনেক কষ্ট হয়।

শিক্ষার্থীরা জানায়, স্কুলে যাবার সময় নোংরা দুর্গন্ধে আমাদের পথ চলতে কষ্ট হয়। ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে অনেক সময় কুকুর খাবার খোঁজে। কখনো কুকুরগুলো ধস্তাধস্তি করে রাস্তায় চলে আসে। ফলে স্কুলে যাবার সময় কুকুরের আতঙ্কে থাকি। মহিলা কলেজের ছাত্রীরা জানাণ, কলেজের নিয়মানুযায়ী আমাদের সাদা ড্রেস পড়ে কলেজে যেতে হয়। কুকুর ময়লা খাবার সময় শরীরে লেগে যায়।

এক অভিযোগ করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সরকারী দপ্তরে আসা ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্ধ। পৌরকর্তৃপক্ষের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।

ঝালকাঠি সদর উপজেলা বন কর্মকর্তা জিয়াউল ইসলাম বাকলাই জানান, ময়লা আবর্জনা ফেলার কারণে রাসায়নিক বিষাক্ততায় কয়েকটি বড় মেহগনি গাছ মারা গেছে। গাছ পৌরসভার, বন বিভাগের না। পৌরসভা আমাদের অফিসিয়াল জানালে আমরা গাছের পরিধি ও উচ্চতা মেপে দর নির্ধারণ করে নিলাম প্রক্রিয়ার কাজে সহযোগিতা করতে পারি।

ঝালকাঠি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আবু হানিফ জানান, পৌরসভার পরিত্যক্ত নর্দমার জায়গাটিতে ময়লা ফেলে ভরাটের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তিতে বরাদ্দ দেওয়া হয় বেগম ফিরোজা আমু ঝালকাঠি টেকনিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের জন্য। সেখানে থাকা কয়েকটি মেহগনি গাছ শুকিয়ে মারা গেছে। পৌরসভার মাসিক সবায় বিষয়টি উত্থাপন করে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

"