ভর্তির আবেদন বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী

যশোর জিলা স্কুল ও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

যশোর প্রতিনিধি

যশোর জিলা স্কুল ও যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তিতে শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে কিন্ডারগার্টেনে অধ্যয়নরত প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী আবেদনের সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ভর্তি নীতিমালায় না থাকলেও দুটি স্কুল কর্তৃপক্ষ এই শর্ত দিয়েছে। গত বছর কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। এবারও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরকারি নীতিমালা অনুসারে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগের দাবি জানান, যশোর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। গত গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি করেন।

লিখিত বক্তব্যে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল কবির খান বলেন, ‘গত তিন বছর ধরে যশোর জিলা স্কুল ও যশোর সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফরম কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়নি। অথচ সরকারি বিধি মোতাবেক তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণির ভর্তিতে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীদের সুযোগ উন্মুক্ত। কিন্ডারগার্টেন স্কুলে সরকারি পাঠ্যপুস্তকসহ আধুনিক ও যুগোপযোগী পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো যথেষ্ট ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে আসছে। সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি যশোর জিলা স্কুল ও যশোর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদনের ক্ষেত্রে সরকারি বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল কবির খান বলেন, যশোর সদর উপজেলায় ১৮০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এসব স্কুলের সাড়ে সাত হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। যারা ওই দুটি স্কুলে তৃতীয় ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করতে চায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের জুড়ে দেওয়া শর্তের কারণে আবেদন বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ গত তিন বছর ধরে কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেনি। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে ভর্তির আবেদন বঞ্চিত হয়েছে। আমাদের দাবি সবাইকে সুযোগ দেওয়া হোক। মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করা হোক। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, যশোর কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শিখা বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক জুলেখা আক্তার, সহসাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, দফতর সম্পাদক ইনামুল কবির, সদস্য আবদুর রউফ, জসিম উদ্দিন প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক আবদুল আওয়াল বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় সবার আবেদনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে নীতিমালায় এ সংক্রান্ত কোনো নিষেধ আছে কিনা, দেখতে হবে। আইনে যদি নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে, বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এ বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

"