কুয়াকাটায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে অবৈধ্য স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। সৈকতের লাগোয়া জিরো পয়েন্ট থেকে সরদার মার্কেট এবং সানরাইজ মার্কেটের নামে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসকের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে যেমন খুশি তেমন করে অবৈধভাবে তোলা হচ্ছে এ স্থাপনা। যার কারণে পর্যটকদের সৈকতে নামা-ওঠা এবং অবাধ চলাচলের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় তোলা হচ্ছে এসব ঘর। ফলে সামান্য বাতাস এলেই ধসে পড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনায় রয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সৈকতে নামতে সড়কের পশ্চিম পাশে সরদার মার্কেট কর্তৃপক্ষ এক অংশ পূর্বের টিনশেড ঘর ভেঙে দুই ইঞ্চি অ্যাঙ্গেল দিয়ে ১৬ ফুট উঁচু করে ঝুঁকিপূর্ণভাবে নির্মাণ করছে বিশাল দোতালা এই স্থাপনা। যেখানে থাকছে নিচে মার্কেট উপরে রেস্টুরেন্ট ও আবাসিক হোটেল। সামান্য বাতাস এলেই ধসে পড়ে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে সানরাইজ কর্তৃপক্ষও কাঠের একাধিক নতুন ঘর তুলছে কোনো বাধা ছাড়াই। এসব ঘর তুলতে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি পক্ষ সহায়তা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। জেলা পরিষদ ডাক বাংলোর সামনে এবং সৈকতের জিরো পয়েন্ট লাগোয়া এসব ঘর তুলে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব অবৈধ স্থাপনা তোলার হিড়িক পড়লেও রহস্যজনক কারণে তারা নীরব রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে সৈকতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অস্থায়ী তোলা ঘর থেকে সানরাইজ কর্তৃপক্ষ তার রেকর্ডীয় জমি দাবি করে প্রায় অর্ধশতাধিক দোকান থেকে ভাড়া আদায় করছে। ভাড়া আদায় নিয়ে সানরাইজ কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রতিনিয়ত বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ভাড়া আদায়ের বিষয়ে ইউএনও তানভীর রহমান নির্মাণকারীদের সতর্ক করেন একাধিকবার। এ ছাড়াও তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাড়া দিতে নিষেধ করেন। তারপরও থেমে নেই তাদের ঘর তোলা ও ভাড়া আদায়ের অবৈধ বাণিজ্য।

সরদার মার্কেটের সভাপতি মাসুদ জানান, টিনের নরবড়ে ঘর তুলে তাদের কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এর ওপর আবার অ্যাঙ্গেল দিয়ে দোতালা ঘর তুলে খাবার হোটেল ও আবাসিক হোটেল তোলা হচ্ছে। এ ঘর খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সামান্য বাতাসেই ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হতে পারেন তারা।

কুয়াকাটা পৌর শ্রমিক লীগের সভাপতি আব্বাস কাজী বলেন, ‘সরদার মার্কেট ও সানরাইজ কর্তৃপক্ষ সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর তুলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অন্যদিকে সৈকতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে ভাড়া আদায় করছে।’

সরদার মার্কেটের মালিক সাজেদুল আলম সাজু জানান, তারা অবৈধভাবে ঘর তুলছে না। তাদের জমিতে ঘর নির্মাণ করতে পারবে আদালতের এমন নির্দেশনা মেনেই তারা ঘর তুলছে।

ইউএনও মো. তানভীর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই। অবৈধভাবে কেউ স্থাপনা নির্মাণ করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

"