ভূঞাপুরে যমুনার চরে ২ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ

প্রকাশ : ১০ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের বাদামের বীজ বপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন যমুনা চরাঞ্চলের কৃষকরা। যমুনার পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চারিদিকে এখন শুধু ধু ধু বালুচর। রাত পোহালেই কৃষকরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে দিনভর কঠোর পরিশ্রম করে বালুচরে বাদাম বীজ বপন করছেন। বাদাম চাষের জন্য বেলে মাটি খুবই উপযোগী। তাই চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের বেলে মাটির জমিতে বাদাম চাষ করে থাকেন। আশ্বিণ-কার্তিক মাস বাদাম চাষের সঠিক সময়। আড়াই থেকে তিন মাসের মধ্যে তা আবার কৃষকের ঘরে উঠে। চলতি বছর বাদামের ভালো ফলন হওয়ায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর অধিক পরিমাণ জমিতে বাদাম চাষ করছেন যমুনার এই চরাঞ্চলের কৃষকরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোবিন্দাসী, অজুনা ও গাবসারা ইউনিয়নের চরতারাই, চরভরুয়া, বলরামপুর, কুঠিবয়ড়া, রায়ের বাসালিয়া, রামাই, বাসিদকল, রুলিপাড়া, গোবিন্দপুর, রামপুর ও ডিগ্রীচর অঞ্চলের বাদাম বীজ বপনে চাষিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পুরোদমে বীজ বপন ও বাদাম খেতের পরিচর্যা শুরু করেছে তারা। কারণ অল্প খরচে এবং কম সময়ে অধিক লাভবান হওয়া যায়। বাদাম চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় পাঁচ-ছয় হাজার টাকা এবং বিঘাপ্রতি ফলন পাওয়া যায় প্রায় সাত-আট মণ। বাদাম বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি লাভ হয় প্রায় ৮-১০ হাজার টাকা। গাবসারা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের বাদাম চাষি জিন্নত আলী বলেন, গত বছর আমি জমিতে বাদাম চাষ করে ভালো ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে বাদাম চাষ করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরেও ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।

খরচবিহীন এই ফসল কৃষককে দিচ্ছে প্রচুর অর্থ, সুস্বাদু, মুখরোচক ও ভিটামিনসমৃদ্ধ এই ফসল একদিকে যেমন খাদ্যে যোগান দিয়ে থাকে অন্যদিকে তেলের চাহিদা পূরণ করে। বাদাম খেত থেকে কচিপাতা কেটে কৃষকরা তাদের গরু-ছাগলদের খাওয়ান। এতে গরু- ছাগল তাড়াতাড়ি স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে। এ ছাড়াও অন্যান্য ফসলের মতো বাদামের জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় না। শুধু সময় মতো বীজ বুনে বাদাম ঘরে তোলার জন্য অপেক্ষায় থাকা। কম খরচে কৃষক লাভবান হওয়ার একটি ভালো ফসল। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি অফিস থেকে বাদাম চাষিদের জন্য ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চরাঞ্চলের ১০০ জন বাদাম চাষিকে ১০ কেজি বাদাম বীজ এবং ১৫ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, গত বছর যমুনা চরাঞ্চলে প্রায় ১৮০০ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছিল। এ বছর এর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর বাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে আশা করছি।

 

"