ক্লাস চলাকালেই খসে পড়ল পলেস্তারা, ৫ শিক্ষার্থী আহত

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে স্কুল ভবনের ছাদের ভিমের পলেস্তারা খসে পড়ে পাঁচ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (জুনিয়র হাই স্কুল) এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহত শিক্ষার্থীদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিসের দাবি, অনেক আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, ক্লাসরুমের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদানে বাধ্য হয়েছেন তারা।

আহত শিক্ষার্থীরা হলো তাসপিয়া আক্তার, ফাতেমা আক্তার, সাফিয়া আক্তার, সাইয়েদুল হোসেন ও রেজাউল ইসলাম। এর মধ্যে তাসপিয়া ও সাফিয়া গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ক্লাস্টার পরিদর্শক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন।

শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলা দ্বিতীয়পত্র ক্লাস চলাকালীন সময়ে ভবনের ছাদের ভিমের পলেস্তারা খসে পড়ে। এ সময় ক্লাসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঁচজন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত হলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়নি। ফলে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাতে হিমশিম হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও পাঠদান করতে হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছালমা আক্তার জানান, আমি জেএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলাম। খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে ছুটে যাই এবং আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার একমাত্র জুনিয়র বিদ্যালয়। ক্লাসরুমের সংকট থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মিয়াজী শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পেয়ে শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনের জন্য এমপি মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম মহোদয়কে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন বরাদ্দ পেলে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করতে হবে না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার বলেন, খবর পেয়ে ক্লাস্টার পরিদর্শক (এটিও) আকতার হোসেন ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। তিনি জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস না নেওয়ার নির্দেশনা অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে।

"