উচ্ছেদ হচ্ছে সেই বিতর্কিত স্থাপনা

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মহসীন শেখ, কক্সবাজার

অবশেষে আন্দোলনের মুখে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণাধীন মার্কেট উচ্ছেদ হচ্ছে। গত বুধবার থেকে নির্মাণাধীন মার্কেট থেকে শুরু হয় টিনের ছাউনি তুলে নেওয়া। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র আন্দোলন ও বেলা আইনি নোটিসের মুখে উচ্চ আদালতের রায়ে এ উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণাধীন মার্কেটের টিনের ছাউনি সরিয়ে নিচ্ছেন কয়েকজন শ্রমিক। প্রায় অধিকাংশ দোকানের টিনের ছাউনি খুলতে দেখা যায় শ্রমিকদের। এ সময় একাধিক শ্রমিক বলেন, গত মঙ্গলবার রাত থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুঠোফোন কোম্পানির পক্ষ থেকে মার্কেট নির্মাণ সামগ্রী সরাতে দেখা যায়।

তারা আরো বলেন, গত বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের একজন ম্যাজিস্ট্রেট মার্কেটের টিন তুলে নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জানা যায়, সমুদ্র সৈকতের ৩০০ মিটারের মধ্যে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ থেকে বিরত থাকতে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি দখল করে মার্কেট ও দোকান নির্মাণ শুরু করে জেলা প্রশাসনের বিচ ম্যানেজম্যান্ট কমিটি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন সামাজিক সংঠনের নেতারা ও সচেতন মহল।

সৈকতের বালিয়াড়িতে স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে মার্কেট ও দোকান নির্মাণের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর টনক নড়ে প্রশাসনের।

এদিকে, দখলের শুরুতেই শত বাধাকে উপেক্ষা করে সর্বপ্রথম কক্সবাজারের অন্যতম সামাজিক সংগঠন ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র ব্যানারে স্থানীয়রা সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে মার্কেট ও দোকান নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, স্বারকলিপি প্রদান, গণস্বাক্ষরসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে। পরে আন্দোলনের বিষয়টি নিয়ে প্রতিদিনের সংবাদসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি অবগত করা হয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতিকে (বেলা)। এরই প্রেক্ষিতে বেলার পক্ষ থেকে বালিয়াড়ি দখল করে সমুদ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণাধীন মার্কেট উচ্ছেদের জন্য গত ৫ নভেম্বর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও পশু সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (চট্টগ্রাম) ও পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক কক্সবাজারকে আইনি নোটিস দেন পরিবেশ আইনবিদ (বেলা)।

ওই নোটিসের প্রেক্ষিতে আগামী ১১ নভেম্বরের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বেলাকে অবহিত করার জন্য বলা হয়। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুশিয়ারি করা হয়। বেলার নোটিসের পর গত বুধবার সকাল থেকে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া শুরু করে জেলা প্রশাসন।

এ বিষয়ে ‘আমরা কক্সবাজারবাসী’র মুখপাত্র নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘সৈকত আমাদের সম্পদ। এর অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেশ-বিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন কক্সবাজারে। তবে সম্প্রতি একটি স্বার্থন্বেষী মহল সৈকতে একের পর এক দখল-বেদখল অব্যাহত রেখেছে। এতে শ্রীহীন হয়ে পড়ছে সমুদ্র সৈকত।’

জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম শেখ বলেন, ‘মার্কেট নির্মাণের বিষয়ে বেলা আপত্তি তোলায় নির্মাণাধীন মার্কেটের স্থাপনা উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’

"