আগাম আলুখেতে গোড়াপচা ও মড়ক রোগের আক্রমণ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ওয়ালি মাহমুদ সুমন, নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় আগাম আলুখেতে মড়ক (ঝ্যামড়া ও গোড়া পচন) দেখা দিয়েছে। ফলে এলাকার কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকরা জানান, তারা আগাম আলু সঠিক সময়ে চাষ করেছেন। সময়মতো জমিতে সেচ ও কীটনাশকও দিয়েছেন, কিন্তু ফসল ঘরে তোলার আগেই আলুর মড়ক দেখা দিয়েছে। গোড়া পচা ও ঝ্যামড়া পচা রোগে নষ্ট হয়েছে অনেক আলু।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৬ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম আলু চাষ হয়েছে ২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে। উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি, নিতাই ইউনিয়নের পানিয়ালপুকুর, বড়ভিটা ইউনিয়নের বড়ভিটা ডাঙ্গাপাড়া এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষকরা আলু লাগিয়ে সময়মতো জমিতে পানি ও বালাইনাশক ¯েপ্র করেন। আলুখেত দেখে তারা এবার বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে খেতে গোড়া পচন ও ঝ্যামড়া পচন মড়ক দেখা দেয়। বারবার কীটনাশক দিয়েও রক্ষা করা যাচ্ছে না আলুখেত।

কারো জমির আলুখেতের বয়স ৩৫ দিন, ৩০ দিন বা ২৫ দিন। আলু রোপণের ৫৫ দিনের মধ্যে আলু তাদের বাজারে বিক্রি করার কথা। কৃষকরা অভিযোগ করেন, দুর্দিনে কৃষি বিভাগের কর্মীদের কাছে না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

উত্তর দুরাকুটি গ্রামের আলু চাষী আলম হোসেন বলেন, তিনি ১১ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষ করেন। তার আলুখেতের বয়স ৩৫ দিন। সুন্দর আলুর গাছ দেখলে বলে দেয় যেন আলুর বাম্পার ফলন হবে। প্রতি বিঘায় তার আলু চাষে খরচ ২০ হাজার টাকা। ফলে ১১ বিঘায় তিনি খরচ করেছেন ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। সময়মতো আলু উঠলে তার খরচের ডবল বিক্রি হওয়ার কথা।

তিনি আরো বলেন, তার তিন বিঘা জমির আলুখেতে গোড়া পচন রোগ দেখা দেওয়ায় কৃষি বিভাগের দেওয়া পরামর্শে দুই প্রকারের কীটনাশক গোল্ডাজীন ও কম্পিনিয়ান প্রয়োগ করেও এ মড়ক হতে আলুখেত রক্ষা পাচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এনামুল হকের মতে, দিনে ও রাতে আবহাওয়ার তারতম্য দেখা দিয়েছে। কৃষকরা আগাম আলু রোপণ করার সময় জমিতে সঠিকভাবে ডলচুন ব্যবহার করেননি। ফলে এমন রোগ দেখা দিয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মীদের মাঠে না যাওয়ার অভিযোগ বিষয়ে তিনি জানান, তা পুরোপুরি সত্য নয়। আমাদের কর্মীরা মাঠে রয়েছেন এবং কৃষকদের সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।

"