নড়াইলে নকশা জটিলতায় ‘বারইপাড়া সেতু’র কাজ বন্ধ

বর্তমান নকশা পরিবর্তন করে সেতুর শুরু ও শেষের অংশে তিন মিটার করে উঁচু করা প্রয়োজন

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নড়াইল প্রতিনিধি
ama ami

নড়াইল সদরের সঙ্গে কালিয়া উপজেলার যোগাযোগ স্থাপনে জেলাবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষিত ‘বারইপাড়া সেতু’র নির্মাণকাজ শুরু হতে না হতেই বন্ধ হয়ে গেছে। চার মাস ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। এ বছরের জুন মাসে বারইপাড়া ঘাটে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সেতুর লে-আউট দেওয়ার সময় স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি তাদের জায়গা দাবি করে কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে নড়াইল-১ আসনের এমপি ও সংশ্লিষ্ট অফিসের সহায়তায় এক মাস পর পুনরায় কাজ শুরু হলেও নকশা জটিলতা ধরা পড়ায় কাজ আবার বন্ধ হয়ে গেছে।

জানা গেছে, বর্তমান নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মাণ করলে বর্ষা মৌসুমে সেতুর দুই প্রান্তের দুই পাশের পিলারের সঙ্গে পানির লেভেল কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় কিছু ত্রুটি ধরা পড়েছে। আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নকশা পরিবর্তন-সংক্রান্ত এক মিটিং এ পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে। এদিকে সেতুর নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে লোকসান গুনতে হচ্ছে। প্রতি মাসে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা গচ্চা দিতে হচ্ছে প্রতিষ্ঠানকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নড়াইল-কালিয়া সড়কে নোয়াকগ্রাম ইউনিয়নের বারইপাড়া ও কালিয়া পৌরসভার পাঁচ কাউনিয়া অংশে নবগঙ্গা নদীর ওপর সেতু নির্মানের টেন্ডার উন্মুক্ত করা হয়। ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশগ্রহন করে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে এ বছরের ১৮ মার্চ মেসার্স এমডি জামিল ইকবাল এন্ড মো. মইনুদ্দীন বাশি জেভি ফার্ম এ সেতুর কার্যাদেশ পান। ৬৫১.৮৩ মিটার লম্বা এবং ১০.২৫ মিটার প্রস্থ সেতুর নির্মান ব্যয় ধরা হয় ৬৫ কোটি ৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। এ বছরের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন (২৪ মাস) মাসের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা।

সেতু নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মইনুদ্দীন বাঁশি এ প্রতিনিধিকে জানান, বর্তমান নকসা অনুযায়ী কাজ করলে বর্ষা মৌসুমে পানি বাড়লে সেতুর দুই প্রান্তের পিলারের পানির লেভেল কমে যেতে পারে। এ কারণে সেতু আরও ৩ মিটার উঁচু করতে হবে। এছাড়াও পাইল ক্যাপ পানির নীচে থাকবে না পানির ওপরে থাকবে তা বর্তমান নকশায় নেই। এসব কারণে সেতু নির্মানের ব্যয় বেশ কয়েক কোটি টাকা বাড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, নকশা জটিলতার কারনে প্রতি মাসে ২টি বার্জের ভাড়াসহ শ্রমিকদের পেছনে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা গচ্চা যাচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ নড়াইলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. বাসারুল আলম বলেন, ‘বর্তমান নকশা অনুযায়ী সেতু নির্মিত হলে যদি বর্ষাকালে নদীতে পানির উচ্চতা অতিমাত্রায় বাড়ে তাহলে সেতুর দুই তীর এবং দুই পার্শ্বের পিলার প্লাবিত হতে পারে। সে কারনে সেতুর শুরু ও শেষের অংশে অর্থাৎ দুই প্রান্তে ৩ মিটার করে উঁচু করা প্রয়োজন। তবে সেতুর মাঝখানের উচ্চতা পূর্বের নকশা অনুযায়ীই হবে।’

জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দীন জানিয়েছেন, সেতুর পাইল ক্যাপ পানির ওপরে থাকবে না পানির নীচে থাকবে সেটা নকশায় ধরা ছিল না। আগামী ১২ অক্টোবর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়, ঢাকায় নকশা সংক্রান্ত এক সভায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। নকশা পরিবর্তন হলে সেতুর ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে। এর জন্য ডেভোলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) কারেকশনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। আশা করছি সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু হবে।

উল্লেখ্য, নড়াইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি নির্মিত হলে কালিয়া পৌরসভারসহ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ২৩১টি গ্রামের সঙ্গে সদর ও লোহাগড়া উপজেলার সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হবে। নবগঙ্গা নদীর কারেন কালিয়া উপজেলার সঙ্গে নড়াইল সদরের সরাসরি কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে এই জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন বরাবরই বাঁধাগ্রস্থ হয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কালিয়া-নড়াইল সড়ক দিয়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতালসহ বিভিন্ন কাজে চলাচল করলেও তাদের সময় বেশী লাগে। ব্যবসায়ী-কৃষক-মৎসজীবীরা পণ্য নিয়ে শহরে আসলে তাদের উৎপাদিত খরচ অনেক বেড়ে যায়। অনেক সময় আইন-শৃংখলা বাহিনীও এসব এলাকার আইন-শৃংখলা রক্ষা করতে হিমসিম খায়।

"