নেই স্থায়ী ব্যাংক শাখা ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ইসমাইল রিফাত, বেরোবি

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রতিষ্ঠার ১০ বছর অতিক্রম করে ১১ তে পা রাখছে। কিন্তু ক্যাম্পাসে এখনো স্থাপন হয়নি স্থায়ী ব্যাংক শাখা। এতে প্রতিনিয়ত অর্থ প্রদানে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

গত রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অর্থনীতি, লোক প্রশাসন, বাংলা, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রায় ১০টি ব্যাচের সেমিস্টার ফি, ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার তারিখ ছিল। একটি ছোট রুমে অস্থায়ী ব্যাংক বুথে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী তাদের বিভিন্ন ফি জমা দিতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী বাপ্পি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ব্যাংক শাখা না থাকায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে টাকা জমা দিতে হয়। এতে নিজেদের যেমন সময় নষ্ট হয় তেমনি কষ্টের সীমা থাকছে না। তাই অতি শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ব্যাংক শাখা প্রয়োজন।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিকেম আলী ও আবিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজকে আমাদের বিভাগসহ পাঁচ-ছয়টি বিভাগের প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী ভর্তি এবং ফরম পূরণের টাকা জমা দিচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে। আমাদের আজকেই ফরম পূরণের টাকা জমার শেষ তারিখ। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি এখন বাজে সাড়ে ১২টা এখন পর্যন্ত টাকা জমা দিতে পারিনি। ছোট্ট একটি রুমে টাকা জমা নেওয়ার ব্যবস্থা থাকায় মাঝে মাঝে হয়রানির শিকার হতে হয়। বিশেষ করে মেয়েদের অনেক সমস্যা হয়। তাই শিক্ষার্থীদের কষ্ট লাঘবে একটি স্থায়ী ব্যাংক শাখা জরুরি।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিব আখলাক বলেন, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে ফরম পূরণের টাকা জমা দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো স্থায়ী ব্যাংক বুথ নেই তার ওপর বিভাগগুলো হঠাৎ করে ভর্তি তারিখ নির্ধারণ করে। এতে করে একদিনে একাধিক বিভাগের ভর্তি, ফরম পূরণের তারিখ একই দিনে হওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির সীমা ছাড়িয়ে যায়। ছোট একটা রুমে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে টাকা জমা দিতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি স্থায়ী ব্যাংক শাখা থাকত তাহলে হয়তো এত ভোগান্তি পোহাতে হতো না শিক্ষার্থীদের।

মুখতার ইলাহী হলের শিক্ষার্থী মাহবুল মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্লাস না করে হল ফি জমা দিতে এসেও জমা দিতে পারলাম না অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রংপুরের লালবাগস্থ জনতা ব্যাংকের একটি অস্থায়ী ব্যাংক বুথের মাধ্যমে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সেমিস্টার ফি, হল ফি প্রদানসহ সকল অর্থ প্রদানের কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ দফতরের একটি অস্থায়ী কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে চলছে শিক্ষার্থীদের এ অর্থ গ্রহণের কাজ। সপ্তাহে পাঁচদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে অর্থ জমা কার্যক্রম। সব প্রকার অর্থ গ্রহণে দুজন কর্মকর্তা যেমন হিমশিম খাচ্ছে তেমনি শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় হচ্ছে দ্বিগুণ হারে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা সৃষ্টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাংকের স্থায়ী শাখা স্থাপনে নজর দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো প্রশাসনই। এতে বেহাল দশায় চলছে অর্থ জমা প্রদানের কাজ। বিশেষ করে সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দিতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই অস্থায়ী ব্যাংক বুথেই শিক্ষার্থীদের একইসঙ্গে হল ভর্তি, একাডেমিক সেশনের ভর্তি, ফরম পূরণের অর্থ, মেডিকেল ও লাইব্রেরি কার্ডের জন্য অর্থ, অনার্স ও মাস্টার্স এর সার্টিফিকেট উত্তোলনে অর্থ প্রদানসহ যাবতীয় অর্থ জমা দিতে হয়। একটি ভাড়া করা কক্ষে সেখানে এতগুলো কাজ সংক্ষিপ্ত সময়ে মাত্র দুজন কর্মকর্তাকে কাজগুলো সামলাতে হয়। যার ফলে টাকা জমা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। দিন দিন ভোগান্তির মাত্রা বেড়েই চলছে শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি অবগত থাকলেও কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

জনতা ব্যাংক লালবাগ শাখার কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই আমরা এই প্রতিষ্ঠানকে সেবা দিয়ে যাচ্ছি। আমরা শুধু অর্থ জমা রাখি। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা স্থাপনের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে মৌখিক আলোচনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইব্রাহীম কবীর বলেন, ব্যাংক বুথে টাকা জমা দেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ভিড় দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের জন্য আরেকজন কর্মকর্তা কাজ করবে। কিন্তু আজকের (রোববার) সমস্যার বিষয়টি এখনো কেউ জানায়নি। এই সমস্যার সমাধানের স্থায়ী পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি আলাদা ব্যাংক বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা আছে আমাদের।

এ বিষয়ে বেরোবি ভাইস চ্যান্সেলর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি সরকারি (জনতা) ও একটি বেসরকারি (মেঘনা) ব্যাংকের স্থায়ী শাখা স্থাপন করা হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে মেঘনা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া জনতা ব্যাংকের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন পেলেই শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

"