উখিয়ার হাটবাজারে শীতকালীন শাকসবজির দাম চড়া

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের উখিয়ায় ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে স্থানীয় প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবারে শীতকালীন ও বার মাসি শাক-সবজি উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত শাক-সবজি বিক্রি করে অনেক অস্বচ্ছল পরিবারে এসেছে স্বচ্ছতা। কিন্তু রোহিঙ্গা আসার কারণে সবজি চাষাবাদ বাড়লেও দাম কমেনি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদার তুলনায় স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত শাক-সবজি দিয়ে ব্যবসা চলবে না। তাই বিভিন্ন এলাকা থেকে সবজি সরবরাহ এনে মজুদ রাখা হয়। সবজি চাষীরা বলছেন, বিগত যেকোন সময়ের তুলনায় চলতি মৌসুমে শাক-সবজির বাম্পার উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু বাজারে এসব শাক-সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ক্ষেত্র বিশেষে নিম্নশ্রেণির ক্রেতাদের এসব শাক-সবজি কেনাকাটা করা দুঃস্বহ ব্যাপার বলে অনেকেই মনে করছেন। সোমবার উখিয়া সদর দারোগা বাজার ঘুরে দেখা যায়, পুরো বাজারটি শাক-সবজিতে ভরা।

দাম জানতে চাওয়া হলে বিক্রেতারা জানান, আগের তুলনায় বর্তমানে সবজির বাজার একটু চড়া। এমন অবস্থার কারণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সবজি ব্যবসায়ী শামশুল আলম, ছৈয়দ নূরসহ একাধিক খুচরা ব্যবসায়ী জানান, ৮ লাখ রোহিঙ্গার বাড়তি চাহিদার কারণে আড়ৎদার ব্যবসায়ীরা সবজির দাম আগের তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে তাদেরকে শাক-সবজির দাম বাড়িয়ে নিতে হচ্ছে।

সবজি বাজার ঘুরে দাম জানতে চাওয়া হলে খুচরা ব্যবসায়ী নুর আহমদ জানান, প্রতিটি সবজির দাম আকাশচুম্বী। এখানে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধা কপি ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও মুলা শাক, লাল শাক, পুই শাক বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে। যা নিম্নবিত্তের পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে বললে চলে।

সবজ্বির বাজার চড়া নিয়ে আলাপ করা হলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান জানান, রোহিঙ্গাদের বাড়তি চাপের কারণে শাক-সবজির দাম আগের তুলনায় দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন ক্ষেত্রে বিগত সময়ের সাড়ে ৪শ হেক্টর জমিতে সবজি চাষাবাদ করা হলেও বর্তমানে কৃষি জমি, বাড়ি ভিটা ও পরিত্যক্ত জমি সহ প্রায় হাজারেরও অধিক জমিতে শাক সবজি চাষাবাদ হচ্ছে।

উত্তর পুকুরিয়া গ্রামের নুরুল হক একথার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি চলতি মৌসুমে ২০ হাজার টাকার লাল শাক ও মুলা শাক বিক্রি করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শরিফুল ইসলাম জানান, রোহিঙ্গা সহ জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে শাক-সবজি আবাদ বৃদ্ধি করার জন্য স্থানীয় চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শাক-সবজি চাষাবাদের বিভিন্ন উপকরণ সরবরাহ ও নিয়মিত তদারকি করার কারণে শাক-সবজি চাষাবাদ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হচ্ছে।

 

"