দিনাজপুরের ধনেপাতা যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে অনেক কৃষকেই ধনেপাতা চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে। যা গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত কয়েক মাসে ধনেপাতা চাষ করে লাখ লাখ কৃষকরা লাভের মুখ দেখেছেন। এ এলাকায় অনেক কৃষক আজ স্বাবলম্বী হয়েছেন।

এ অঞ্চলেন মাটি উর্বর হওয়ার কারণে এবার ধনেপাতার বাম্পার চাষ হয়েছে। মাত্র আড়াই মাসে ধনেপাতা চাষ করে খরচ বাদে দুই লাখ টাকা আয় করেন কৃষক গণি সরকার। শুধু গণি মিয়া নয় এমন প্রায় ২০-৩০ জন চাষি অগ্রিম ধনেপাতা চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বলে জানান জেলা কৃষি বিভাগ।

দিনাজপুর সদর, খানসামা, বিরল, পার্বতীপুর, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে বেশি সবজি চাষ হয়ে থাকে। উন্নত বীজ ও আধুনিক পদ্ধতিতে স্বাদে, গুণে ও পুষ্টিকর শীত মৌসুমি ধনেপাতা চাষকে কেন্দ্র করে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। ধনেপাতা মাঠ থেকে উঠিয়ে বাড়তি আয় করেছে কয়েকটি উপজেলার দেড় হাজার নারী শ্রমিক। সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে দিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২৫ পুরুষ ও নারী খেত থেকে ধনেপাতা উঠানোর কার্যক্রমে ভীষণ ব্যস্ত। এ সময় খেতের মালিক গণি সরকারও ব্যস্ত তাদের তদারকি করতে, যেন কথা বলার সময় নেই। তারপরও কাজ করতে করতে জানান, ধনেপাতা যা উঠাচ্ছেন এটি পরের কিস্তিতে। চলতি মৌসুমেই অগ্রিম ১০০ শতাংশ জমিতে ধনেপাতা চাষ করে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। এতে তার শতাংশ প্রতি খরচ হয়েছিল ৩০০ টাকা করে। হিসাব মতে প্রথমবার ৩০ হাজার টাকা খরচ করে ৭০ হাজার লাভ হয়েছে।

গণি সরকার জানান, সঠিক পরিচর্যা করতে পারলে ধনেপাতার বীজ বোপন করার ৪০-৪৫ দিন পর তা বিক্রি করার উপযোগী হয়। গণি সরকার এখন দ্বিতীয় কিস্তির ধনেপাতা খেত থেকে উঠিয়ে বিক্রি করছেন। এ কিস্তি থেকে প্রায় আরো এক লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন। সব মিলিয়ে আড়াই মাস ধনেপাতা চাষ করে খরচ বাদ দিয়ে দুই লাখ টাকা আয় হবে।

এ ব্যাপারে জেলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, শুধু উপজেলার গণি সরকার নন, তার মতো অনেক চাষিই অগ্রিম ধনেপাতা চাষ করে লাভবান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, শুধু দিনাজপুর সদরেই অগ্রিম ধনেপাতা চাষ করছেন প্রায় ২০-৩০ জন চাষি। আর চাষিদের নিকট থেকে পাতা কিনে আড়তে বিক্রি করছেন এমন পাইকার আছে আরো ১৫-২০ জন।

 

"