সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘিরে দখলের নতুন কৌশল

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

খুলনা মহানগরীর রূপসা স্ট্যান্ড রোড এলাকায় বন্ধ থাকা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির আশেপাশে বালুর ব্যবসা করে একাধিক প্রতিষ্ঠান। দখল-বেদখলের পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছে এসব প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ফ্যাক্টরির দেওয়াল ভেঙ্গে বালুর ব্যবসার বিষয়টি জানাজানি হলে টনক নড়ে প্রশাসনের। এরই মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে তদন্ত হয়েছে।

দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, এভাবে নানা কৌশলে প্রতারক চক্র বন্ধ থাকা ফ্যাক্টরির কোটি টাকার মালামাল কৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।

জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে হাফিজুর রহমান টিটো নামের এক ব্যক্তিকে ওই এলাকায় শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তরের নীচু জমিতে বালু ভরাটের জন্য ড্রেজার পাইপ লাইন বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অনুমতিপত্র দিয়ে কৌশলে তিনি ব্যক্তিগত বালুর ব্যবসা শুরু করেছেন।

ওই চিঠিতে বলা হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ২৪ অক্টোবর তারিখে পত্র অনুযায়ী ও হাফিজুর রহমান টিটোর আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে নিজস্ব ড্রেজার পাইপ লাইন টেনে শ্রম কল্যাণ অধিদপ্তরের নিচু জমি ভরাটের অনুমতি দেওয়া হলো। এতে শর্ত দেওয়া হয়, নদীর ওপর ভাসমান নৌযান থেকে পাইপের সাহায্যে এই বালি নিতে হবে। কিন্তু ওই অনুমতি পত্রের কোথাও দাদা ম্যাচের দেওয়াল ভাঙ্গা ও প্রতিষ্ঠানটির ভেতর থেকে পাইপ লাইন নেওয়ার কথা বলা হয়নি। পাশাপাশি চিঠিতে শ্রম অধিদপ্তরের জমি ভরাট করার কথা বলা হলেও ওই প্রতিষ্ঠানটি এ সম্পর্কে কিছুই জানে না। এসব নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির সামনের অংশের দেওয়াল ভেঙ্গে ভেতরে মোটা পাইপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পুরাতন উৎপাদন শাখা ও ক্যান্টিন শাখার সামনে থেকে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা ঘুরে পেছনের অংশের দেওয়াল ভেঙ্গে ওই পাইপ বের করে নেওয়া হয়েছে।

শ্রম অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, বালু ভরাটের অনুমতি দেওয়া হাফিজুর রহমান টিটো নামের কোন ব্যক্তির সাথে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া সুরক্ষিত দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির দেওয়াল ভেঙ্গে বালু ভরাটের প্রশ্নই ওঠে না। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে তদন্ত করা হয়।

শ্রম অধিদপ্তরের কাজের সাথে জড়িত ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম মধু জানান, যদি ওই স্থানে বালু ভরাটের জন্য ড্রেজার পাইপ লাইন স্থাপনের প্রয়োজন হয়, তাহলে আমার প্রতিষ্ঠানের প্যাডে আবেদন করা হতো। কিন্তু জেলা প্রশাসন যাকে বালু ভরাটের অনুমতি দিয়েছে তাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না।

এসব ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে হাফিজুর রহমান টিটো জানান, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তিনি বালুর ব্যবসা করছেন। এর সাথে স্থানীয় ভাই-ব্রাদাররা জড়িত রয়েছে।’ তিনি পত্রিকায় নিউজ না করার অনুরোধ করেন।

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন এ প্রতিবেদককে জানান, ব্যক্তিস্বার্থে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির দেওয়াল ভাঙ্গা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাৎক্ষনিকভাবে এ ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, বিগত ১৯৫৬ সালে রূপসার তীরে ১৮ একর জমিতে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু হয়। পরে ২০১০ সালে আর্থিক লোকসান দেখিয়ে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় প্রতিষ্ঠানটির ৭০ শতাংশের মালিক ভাইয়া গ্রুপ। বর্তমানে ফ্যাক্টরিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

"