ঝালকাঠি পৌর শহর

শহরের আবর্জনা খালে ফেলেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা

প্রকাশ : ০৬ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজু খান, ঝালকাঠি

ঝালকাঠি শহরের বিভিন্ন স্থান এখন আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়, খাল, সড়কের নালাগুলোতে জমছে আবর্জনার স্তুপ। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে আবর্জনা সংগ্রহ করে পৌরসভার খালগুলোতে ফেলছে। ফলে এসব খাল এখন হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। বেড়েছে মশা-মাছির চরম উপদ্রব।

শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ছোট-বড় আটটি খাল ছিল একসময় ঝালকাঠির প্রাণ। সে সময় ব্যবসায়ীরা এসব খাল দিয়ে নৌকায় মালামাল আনা-নেওয়া করতেন। আবর্জনায় বদ্ধ খাল থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ।

শহরের বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, আড়তদারপট্টির হরিসভার মোড়, আজাদ ভান্ডারের মোড়, আমতলা রোড, বাঁশপট্টি উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ফটক, মাছবাজারসংলগ্ন খাল, চাঁদকাঠি জালিয়াপাড়া খাল, বাঁশপট্টি খাল, কুমারপট্টি খাল ময়লা-আবর্জনার স্তুপে একাকার। এসব খালের বেশির ভাগ আবর্জনায় ভরে যাওয়ায় এখন আবর্জনা ফেলা হচ্ছে সুগন্ধা নদীতে।

শহরের কোথাও ময়লা ফেলার সুনির্দিষ্ট স্থান ও ডাস্টবিন না থাকায় পৌরবাসী পলিথিনে ভরে সড়কেই ফেলে রাখছেন আবর্জনা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা ফেলা হচ্ছে পাশের নালাগুলোতে। বেশির ভাগ নালার কোনো ঢাকনা নেই। প্রতিবছরের মতো এবারও বর্ষায় পৌরবাসী শহরে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা করছেন। গত কয়েকদিন আগের সামান্য বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন স্থানে এ স্তুপাকারের ময়লা-আবর্জনায় দুর্গন্ধে প্রাণ যায় অবস্থা পৌরবাসীর।

বাঁশপট্টি সড়কের উদ্বোধন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে বয়ে গেছে বাঁশপট্টি খাল। বিদ্যালয়ের ফটকের পাশেই রয়েছে একটি ডাস্টবিন। এলাকাবাসী বাসাবাড়ির আবর্জনা ফেলে খালটি প্রায় ভরে ফেলেছেন। ময়লা উপচে পড়ছে সড়কে। আবর্জনার দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রাইমারি শাখার প্রধান শিক্ষক মাহবুবা বেগম বলেন, বিদ্যালয়ের প্রায় ৬০০ ছাত্রছাত্রী চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে ময়লা-আবর্জনার পাশে ক্লাস করছে। পৌর কর্তৃপক্ষের এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।

বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক অংশের প্রধান শিক্ষক শামসুল হক বলেন, ‘ক্লাসের পাশেই আবর্জনার স্তুপ। অভিভাবকেরা বারবার অভিযোগ দিচ্ছেন। গত বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠানে মেয়র সাহেবকে দাওয়াত দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছি। কিন্তু কোনো উদ্যোগ নেই।’ পৌরসভার বাসন্ডা খালের ডাকঘাটা দিয়ে ব্যবসায়ীদের মালামাল ওঠানো-নামানো হয়। আবর্জনা ফেলায় ডাকঘাটা এলাকায় খালপাড়ের বেশির ভাগ অংশ ভরে গেছে।

জানতে চাইলে পৌরসভার এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী বলেন, ‘ময়লা ফেলার জন্য পৌরসভায় নির্ধারিত স্থান নেই। তাই বাধ্য হয়ে খালে ফেলি।’

ঘাটশ্রমিক বাবুল মিয়া ও হেলাল বলেন, ‘এই খালের পানিতে ময়লা ফেলায় গোসল করতে পারি না। নিষেধ করা সত্ত্বেও খুব সকালে ময়লা ফেলে যায় পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।’

এ বিষয়ে সাবেক পৌর কমিশনার রুস্তম আলী চাষি বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ঘরের ময়লা ঘরেই ফেলছেন। শহরের বিভিন্ন এলাকা এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। কিছুদিন পরে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি পৌরবাসীকেও ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার ব্যাপারে সচেতন হওয়া উচিত।

পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা সকালে রা¯ত্মাঘাট পরিষ্কার করে এলেও আটটার মধ্যে বাসাবাড়ির লোকজন রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখেন। শহরের সীমিত কিছু এলাকার বাসাবাড়ির ময়লা একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হলেও অধিকাংশ মহল্লার মানুষ এর খরচ বহন করতে আগ্রহী নন।’

পৌরসভার মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, ‘আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার জন্য পৌরসভার কোনো ভাগাড় (ডাম্পিং স্পট) নেই। বাসন্ডা ইউনিয়ন পরিষদের কাছে কুলিয়ারি মৌজায় একটি জায়গা দেখেছি। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে সেখানে ভাগাড় স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেব।’

 

"