মোরেলগঞ্জে লবণমুক্ত ১৬ হাজার হেক্টর জমি

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

অতিরিক্ত লবণ ও বেড়িবাঁধ না থাকায় দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৬ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি ছিল। কৃষকরা এসব জমিতে এত দিন কোনো ফসল ফলাতে পারেননি। বেড়িবাঁধ নির্মান করায় সেই জমি এখন লবনাক্ত মুক্ত। কৃষকরা এসব অনাবাদি জমিতে চলতি বছর ধান চাষ ও অন্যান্য ফসল ফলাতে পেরে আনন্দিত।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার তেলীগাতি, বহরবুনিয়া, খাউলিয়া, পুটিখালী, দৈবজ্ঞহাটী ও পঞ্চকরণ ইউনিয়নসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ১৬ হাজার হেক্টর জমি অনাবাদি ছিল। এসব ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার কৃষক দীর্ঘ দুই যুগ জমিতে কোন ফসল ফলাতে পারেনি। বেড়ি বাঁধের কারনে পানগুছি নদীর লবনাক্ত পানি ঢুকতে না পারায় সেই জমি এখন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। লবনাক্ত না থাকায় এলাকার কৃষকরা মনের আনন্দে এসব জমিতে এখন ধান ও সবজি দুটোই আবাদ করতে পারছে।

পঞ্চকরণ ইউনিয়নের মহিষচরণী গ্রামের হরেন সরকার (৬০), মিলন সরকার (৪২) ও রনজিত ঢালী (৫৫) জানান, তারা ২০-২২ বছর ধরে লবনাক্ততার কারনে মৎস্য ঘের করে আসছেন। ধান উৎপাদনে ফসল ভালো না হওয়ার কারনে তারা মৎস্য ব্যবসা করছে। কিন্তু পর পর কয়েক বছর ভাইরাসে চিংড়ি চাষে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এবারে তারা ওই মৎস্য ঘেরের বেড়িতে শীতকালিন সবজি লাউ, মিষ্টি কুমড়া, করলা, লাল শাক, পালন শাক ব্যাপক উৎপাদন করেছেন। বাজারে অধিক মূল্যও পাচ্ছেন। পাশাপাশি জমিতে ফলজ ও বনজের নার্সারী করেছে অনেকে।

কুমারিয়া জোলা গ্রামের তপন রায় জানান, তার ৩ বিঘার মৎস্য ঘেরের ভেড়ীতে শীতকালিন সবজী উৎপাদনে এ মৌসুমে ১লাখ থেকে দেড় লাখ বিক্রি হবে। বলইবুনিয়া ইউনিয়নের প্রায়ই বাড়ির আঙিনা এমনকি রাস্তার দুই ধার ভরে আছে লাউ, কুমড়া, মুলা, মরিচসহ শীত কালীন নানা সবজিতে। এখন মাঠজুড়ে আমন ধান। স্থানীয় কৃষকরা দুই বছর ধরে ধানের পাশাপাশি রবিশস্য, লাউ, কুমড়া, লাল শাক পালন শাকসহ নানা সবজি চাষ করছেন। এছাড়াও ঘেরের মধ্যে বোরো ও আমন ধান ব্যাপক ফসল দেখা যাচ্ছে।

উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন ও মেজবাহ আহম্দে জানান, এ অঞ্চলের কৃষকদের এক সময় দুর্বিসহ জীবন পার করতে হয়েছে। দীর্ঘদিন লবনাক্ততার কারণে চাষাবাদ বন্ধ থাকায় প্রায় ২ যুগ পরে আবার কৃষক প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এখন বাড়ি ও মাঠের কোনো জায়গা আর ফেলে রাখছে কৃষকেরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অনুপম রায় বলেন, ‘তিন বছর ধরে ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করছেন কৃষকরা। আমরা তাদের নতুন প্রযুক্তি সহায়তার পাশাপাশি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদেরকে উদ্ধৃদ্ধকরণ করার কারনে তারা এসব অনাবাদি জমিতে নতুন নতুন ফসলের পাশাপাশি সবজী উৎপাদন করতে পারে সে ক্ষেত্রে সার্বক্ষনিক তাদের পরামর্শ দিয়ে আসছি।’

 

"