আগাছানাশক ওষুধ ব্যবহারে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

মানুষ আগে যেখানে কৃষিজমিতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য নিড়ানী ব্যবহার করতো এখন সেখানে ব্যবহার করা হয় আগাছানাশক ওষুধ। বর্তমানে ফসলি জমিতে এর ব্যবহারের ব্যাপকতা বেড়েছে। এতে করে এই আগাছানাশক কৃষি, পরিবেশ, পশুপাখির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পারিবারিক কলহ বা বিভিন্ন হতাশার কারণে বিষপানে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছে অনেকেই। এদের কম সংখ্যকই বেঁচে ফিরছেন। আর বিষপানে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের হারের দিক থেকে অনেক বেশি এগিয়ে আছে আগাছানাশক। এই আগাছানাশকের ভয়াবহতাও রয়েছে ভিন্ন রকমের।

বিশেষজ্ঞদের হিসাব মতে, এই বিষ খেয়ে শতকরা ৭৫ শতাংশই রোগী মারা যাচ্ছে। তাছাড়া পারিবারিক কলহ বা বিভিন্ন হতাশার কারণে গাছের আগাছানাশক খেয়ে আত্মহত্যায় প্ররোচিত হচ্ছে অনেকেই। আগাছানাশক সহজেই মিলছে গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র।

দিনাজপুর সদর হাসাপাতালের চিকিৎসক জানান, আগে কৃষকরা ঘাসে নিড়ানি দিতেন, এখন নিড়ানির কাজ কম হচ্ছে। জমিতে ঘাস মারা এই বিষ বেশি প্রয়োগ হচ্ছে। এই সব বালাইনাশক হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে। সমাজে যারা মানসিকভাবে অসুস্থ তারা আত্মহত্যায় এই বিষ ব্যবহার করছে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা কীটনাশক পান করে তাদের বেশির ভাগকে বাঁচানো সম্ভব হয়। কিন্তু আগাছানাশক পান করা রোগীদের বেশির ভাগকেই বাঁচানো সম্ভব হয় না। আর এই রোগীদের সংখ্যাও অন্যদের থেকে বেশি। তিনি আরও জানান, আগাছানাশক পানে শরীরের বিভিন্ন মাল্টি-অর্গান ফেইল করে। এ সময় আক্রান্ত রোগীর মুখ থেকে শুরু করে শরীরের যে সব জায়গায় এই বিষ যায় সে সব জায়গা পুড়ে যায়। শরীরের লিভার, কিডনি, ফুসফুস, শরীরের ইলোকটালাইড ব্যালেন্স নষ্ট হয় এবং সব কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। সে সময় আমাদের কিছু করার থাকে না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তা বলেন, কীটনাশক বা বালাইনাশক, আগাছানাশক ব্যবহারের অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। জমিতে ব্যবহৃত সকল কীটনাশক এবং আগাছানাশক নির্দেশনা মেনে মাত্রামেপে তা প্রয়োগ করতে হবে। আগে জমিতে কাজ করার লেবার পাওয়া একটু সহজ হতো। বর্তমানে লেবার কমে গেছে। লেবারদের দাম বেশি পড়ছে, তাই মানুষ এই আগাছানাশক বেশি ব্যবহার করছে। কীটনাশক বা আগাছানাশক তো ক্ষতিকর তা সবাই জানে। কিন্তু বাংলাদেশে যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন করা দরকার তা সঠিকভাবে করতে কীটনাশক, বালাইনাশক, আগাছানাশক প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, তবে বেশি ক্ষতিকারক কীটনাশক-বালাইনাশক, আগাছানাশকের বিকল্প হিসেবে কি ব্যবহার করা যাবে বিজ্ঞানীরা তা আবিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। হয়তো এর বিকল্প পরবর্তীতে হয়ে যাবে।

কৃষি ক্ষেত্রে সকল কীটনাশক, বালাইনাশক, আগাছানাশক আমাদের পানি, মাটি ও জলবায়ুর উপরে মারাত্মক ক্ষতি করছে। জলাশয়ে মাছ মারা যাচ্ছে, পাখিদের খাবারসহ বন্ধ্যাত্ব সৃষ্টি করছে। তার সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের শস্যের ক্ষেত্রে জেনেটিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে।

 

"