নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী-ঈদগড় সড়ক

শোভাবর্ধনের বৃক্ষ ছায়া কেটে সাবাড় করেছে দুর্বৃত্তরা

প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রিমন পালিত, বান্দরবান

পার্বত্য বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী-ঈদগড় সড়কের উভয় পাশের্^ শোভাবর্ধণের জন্য লাগানো ‘বৃক্ষ ছায়া’ গাছগুলো কেটে সাবাড় করে ফেলেছে দূর্বৃত্তরা। গত শনিবার গভীর রাতে গাছ কাটার সময় খবর পেয়ে লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল আজিম। এ সময় দূর্বৃত্তরা দুটি গাছ কাটা অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

এর আগে গত শনিবার দিনদুপুরে বাইশারী-ঈদগড় সড়কের হাজিরপাড়া ও ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন সড়কে প্রায় অর্ধশতাধিক সরকারি গাছ কেটে সাবাড় করে ফেলেছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু গাছ কাটার পর অন্যত্র সরিয়ে ফেলারও অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাইশারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আলম ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর দূর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময়ও দূর্বৃত্তরা শোভাবর্ধন গাছগুলো কাটা অবস্থায় ফেলে যায়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় লোকজন নিয়ে গাছগুলো জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদের জিম্মায় নিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা হাজির পাড়ার সমাজপতি নামধারী ও বিদ্যুতায়নের সহযোগী হিসেবে পরিচিত হাজি¦ মোক্তার আহমদের নির্দেশে শোভাবর্ধন গাছগুলো কাটা হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মো. আলম বলেন, বাইশারী-ঈদগড় সড়কের উভয় পাশের্^ সরকারি অর্থায়নে শোভাবর্ধণের জন্য সরকার লাখ লাখ টাকা খরচ করে গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। কিন্তু কিছু অসাধু কাঠ চোরাকারবারী প্রতিনিয়ত শোভাবর্ধন গাছগুলো রাতের আঁধারে কেটে পাচার করে আসছে। তিনি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে জানান। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার দুপুরে বাইশারী-ঈদগড় সড়কের হাজির পাড়া ও ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি ও তার লাগানোর কাজ করছিল পল্লী বিদ্যুতের লোকজন। তারা বিদ্যুতের খুঁটি ও তারের সঙ্গে লাগোয়া কিছু কিছু গাছের ঢাল-পালা কর্তন করছিল। ওই কারণে স্থানীয় বাসিন্দা হাজির পাড়ার সমাজপতি নামধারী ও বিদ্যুতায়নের সহযোগী হিসেবে পরিচিত হাজি¦ মোক্তার আহমদের নির্দেশে শোভাবর্ধন গাছগুলো কেটে ফেলার কথা স্বীকার করেছেন স্থানীয়রা। এছাড়া ইউপি সদস্য নুরুল আজিমও ঘটনার বিষয়ে হাজ¦ী মোক্তারের নির্দেশে সরকারি গাছগুলো কেটে ফেলা হয়েছে বলে জানান।

তবে হাজ¦ী মোক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, আমি শুধুমাত্র বিদ্যুাতায়নের লোকজনের সহযোগীতা করেছি। গাছ কাটার জন্য কাউকে বলি নাই। বিদ্যুতের কাজে নিয়োজিত ফোরম্যান মো. শামিম জানান, তিনি তার লোকজন দিয়ে বিদ্যুত খুঁটি ও তারের উভয় পাশের ঢাল-পালাগুলো কেটেছেন। কাউকে কাছ কাটার জন্য বলা হয়নি।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন ভূঁইয়া জানান, সরকারী অর্থায়নে নাইক্ষ্যংছড়ি এলজিইডি কর্তৃক বাইশারী-ঈদগড় সড়কের উভয় পাশের্^ সড়কের শোভাবর্ধণের বৃক্ষ ছায়া হিসেবে গাছগুলো লাগানো হয়েছিল। দূর্বৃত্তরা গাছগুলো কেটে নেওয়ার বিষয়ে তিনি মোবাইল ফোনে জানতে পারেন। বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরজমিনে তদন্ত পূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন বলেও এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান।

 

"