জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলীতে জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার বিশেষ ভিজিএফ এর বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের জনপ্রতি ২০ কেজি চাল বরাদ্ধ থাকলেও দেয়া হয়েছে ১৬ কেজি ৫গগ গ্রাম চাল। এদিকে জেলে কার্ড থাকা সত্ত্বেও চাল না দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আত্মসাৎ করায় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার শারিকখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার বাদশা তালুকদার তার ইউনিয়নের ৫০৬জন জেলেদের মধ্যে ভিজিএফ’র বরাদ্ধের চাল গত শুক্রবার বিকেলে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন। তবে জেলেদের ২০ কেজি চালের পরিবর্তে দেয়া হয় ১৬ কেজি ৫গগ গ্রাম করে। চাল কম দিয়ে প্রায় ২টন চাল আত্মসাৎ করেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে প্রকৃত জেলেদের চাল না দিয়ে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা মিলে নিকটতম আত্মীয়-স্বজনকে চাল প্রদান করেন।

চাল বিতরণকালে দেখা গেছে, অনেকে জেলে কার্ড নিয়ে চাল নিতে এসে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

শারিখখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে চাল নিতে আসা জেলে আল আমিন, নুরুল ইসলাম, মিজানুর, হেমায়েত, মুছা শিকদার, মাখমসহ আরও অনেকে বলেন, আমাদের তিনজনকে ৫০ কেজির এক বস্তা চাল দিয়েছে। বাকী চাল তারা রেখে দিয়েছে। এতে আমরা জনপ্রতি আনুমানিক ১৬ কেজি ৫০০ গ্রাম চাল পাব।

অপরদিকে জেলে কার্ড নিয়ে চাল নিতে এসে চাল না পেয়ে জেলে সহিদ, মিলন, মালেক, খোকনসহ আরও অনেকে বলেন, যারা কখনও জেলে পেশায় ছিলোনা তারাও চাল পেল। কিন্তু আমরা প্রকৃত জেলে হয়েও চাল পেলাম না।

চাল বিতরণের তদারকির দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার তালতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রিপন মন্ডল বলেন, চাল বিতরণকালে আমার উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও চেয়ারম্যান বিষয়টি আমাকে অবহিত না করেই চাল বিতরণ করেছেন।

শারিকখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল বাসার বাদশা তালুকদার ওজনে কম চাল দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, মেম্বারদের মাধ্যমে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। চাল না পেয়ে জেলে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমার ইউনিয়নে ১২শ’ জেলে কার্ড রয়েছে। চাল বরাদ্দ দিয়েছে ৫৪৭টি কার্ডের। বাকি জেলেদের চাল আমি কোথায় পাব?

তালতলী ইউএনও ফারজানা রহমান বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনে আমি ট্যাগ অফিসারকে তদন্ত করে রিপোর্ট দাখিলের নির্দেশ দিয়েছি। চাল কম দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"