ধসের মুখে উত্তর চট্টগ্রামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাট

উড়াল সেতু অথবা গোলচত্বর নির্মাণের দাবি ব্যবসায়ীদের

প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

শারফুদ্দীন কাশ্মীর, মিরসরাই (চট্টগ্রাম)

স্থাবির হয়ে পড়েছে উত্তর চট্টগ্রামের বিকাশমান বৃহত্তম বাণিজ্যিক কেন্দ্র বারইয়ারহাট পৌর বাজার। সম্প্রতি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পৌর বাজার অংশের পূর্ব-পশ্চিমে পারাপারের ফাঁকা জায়গাগুলো রোড ডিভাইডার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট চরমে পৌঁছেছে। ফলে প্রায় অলস সময় পার করছে ৫ হাজার ব্যবসায়ী। অথচ আগে এখনে দৈনিক গড়ে কয়েক কোটি টাকা লেনদেন হতো।

ব্যবসায়িরা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের অধিকাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবস্থিত। গোল চত্বর অথবা উড়াল সেতু না থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতারা সড়ক পারাপারে দুর্ভোগে পড়েছে। একটি ফুটওভার ব্রিজ থাকলেও ভারি কোন সদায়পাতি নিয়ে মানুষ ওই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না।

ব্যবসায়িদের দাবি, উত্তর চট্টগ্রামের বড় এই বাজারে গোল চত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্মাণ করা হোক। এ জন্য গত রোববার ১৫ অক্টোবর মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বিষয়টি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন তারা।

বারইয়ারহাট থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার ও ফেনীর দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। ফলে বারইয়ারহাট পৌর বাজারটি কয়েকটি অঞ্চলের সংযোগস্থল। ঢাকা-চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াও ফেনী, নোয়াখালী, ছাগলনাইয়া, করেরহাট, রামগড়, খাগড়াছড়ি ও ফটিকছড়ির সাথে যোগাযোগের জন্য একমাত্র রাস্তা। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার এই বাজারটি থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে। কিন্তু গোলচত্বর অথবা উড়াল সেতু না থাকায় ৫ হাজার ব্যবসায়ী অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

স্থানীয় ভাবে এই পৌরসভার অধিনে স্কুল-কলেজ, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসহ সহ¯্রাধিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, বেসরকারী সংস্থা ও ব্যাংকসহ অর্ধশত প্রতিষ্ঠানসহ কয়েক হাজার ভ্রামমান্য দোকান রয়েছে। শুধু তাই নয় রয়েছে ৩টি বাস স্ট্যান্ড, ৪টি সিএনজি স্ট্যান্ড, ১টি পিক আপ স্ট্যান্ড, ১টি মাইক্রো-কার স্ট্যান্ড।

বারইয়ারহাট পৌর বাজারের বড় মুদি দোকান জসিম ব্রার্দাস এর সত্বাধিকারী মিজানুর রহমান ও জোবেদা ফার্মেসীর ওমর ফারুক বাবলু জানান, বারইয়ারহাট বাজারে শুধু মুদি দোকানই প্রায় ২০০ ও ৫০টি ফার্মেসী রয়েছে। মুদি দোকানে ভারি ভারি বস্তা থাকে। কোন ক্রেতার পক্ষে ভারি বস্তা নিয়ে ওভারব্রিজ পার হওয়া সম্ভব নয়। রোগীরা ৮২টি সিঁড়ি পার হয়ে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে দূর্ভোগে পড়ছে। তাই গোল চত্বর অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

বারইয়ারহাট স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন পেয়ার ও রিয়া টি হাউজের সত্বাধিকারী প্রদীপ কুমার দে জানান, ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন তারা। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। এমতাবস্থা লোকসানের মুখে পড়ে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

মোশাররফ হার্ডওয়ারের সত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন নিপুন জানান ও হাসান সু-স্টোরের শাহাদাৎ হোসেন সাদেক জানান, হার্ডওয়ার ও জুতার দোকানে অনেক ভারি জিনিসপত্র বিক্রি হয়। যা নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতারা ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে পার হতে পারে না। তাই আন্ডারপাস অথবা উড়াল সেতু নির্মাণ করা জরুরী।

বারইয়ারহাট ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস সমিতির সভাপতি আব্বাস উদ্দিন ও ফলের আড়াৎ এন.জে এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী অসিম রায় জানান, ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে ফ্রীজ কিংবা ফলের কার্টুন পারাপার করা কঠিন। তাই চলতি কোরবানি ঈদে এ বছর আশানুরুপ ফ্রীজ ও ফল বিক্রি হয়নি।

এনসিসি ব্যাংক বারইয়ারহাট শাখা ব্যবস্থাপক খোরশেদ আলম জানান, বারইয়ারহাট বাজারে ৯টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। অনেক বৃদ্ধ ও মহিলা গ্রাহক ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করে সড়ক পারাপার হতে পারে না। একটি আন্ডারপাস অথবা গোলচত্বর জরুরী।

বারইয়ারহাট কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলমগীর জানান, বারইয়ারহাটে ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বাজারটি ধ্বংস হয়ে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে যাবে। তাই একটি গোলচত্বর নির্মাণ অতিব জরুরী।

বারইয়ারহাট পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন জানান, বারইয়ারহাট বাজারে গোল চত্বর অথবা আন্ডারপাস নির্মাণের বিষয়ে ইতিমধ্যে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক জুলফিকার আহম্মদের মোবাইলে স্থানীয় ও প্রতিদিনের সংবাদ থেকে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া সম্ভব হয়নি।

"