সীমান্ত পথে আসছে ভারতীয় গরু দাম কমায় হতাশ দেশি খামারিরা

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

জিন্নাতুল ইসলাম জিন্না, লালমনিরহাট

বেশ কিছু দিন বন্ধ থাকলেও গত চারদিন ধরে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু আবারও বাংলাদেশে আসতে শুরু করেছে। সিন্ডিকেটের সমঝোতার ভিত্তিতে প্রতি রাতে শত শত ভারতীয় গরু সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে প্রবেশ করছে। এতে দাম কিছুটা হলেও গরুর দাম কমায় হতাশ হয়ে পড়েছেন দেশীয় খামারীরা।

জানা গেছে, ট্রাকের পরিবর্তে এখন গরুর পা বেঁেধ হায়েস মাইক্রোবাসের ভিতরে নিয়ে গরুগুলো দহগ্রাম করিডোর পার করছে একটি সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বের কারণে বেশ কিছু দিন ভারতীয় গরুর প্রবেশ বন্ধ ছিল। গত বুধবার রাতে সিন্ডিকেটের সমঝোতা হওয়ায় আবারও ভারতীয় গরু আসতে শুরু করায় বাংলাদেশের হাট গুলোতে গরুর দাম কমতে শুরু করেছে। ভারতীয় গরুর কারণে ভালো দাম পাচ্ছেন না দেশীয় স্থানীয় গরু খামারিরা। দেশীয় খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান গরু মজুত থাকলেও ভালো দাম না থাকায় তা বিক্রি করতে পারছে না জেলার গরু খামারীরা।

স্থানীয় সূত্রে জাসা গেছে, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ছিটমহল দিয়ে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশের গরু ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতায় দীর্ঘদিন ধরে জমজমাট গরুর ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছে। চোরাইভাবে আসা এসব গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করে ৫০০ টাকা মূল্যে নিলামের কাগজ সংগ্রহ করে বৈধতা পায়। যাকে গরু করিডোর বলে জানেন সবাই। কিন্ত বর্তমানে করিডোর বন্ধ থাকায় ভারতীয় গরু ব্যবসাকে নিয়ে গড়ে উঠে একটি সিন্ডিকেট। ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিন অবাধে শত শত ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। দেশীয় গরু খামারীদের অভিযোগ, এসব ভারতীয় গরু আসার কারনে নিজেদের পালিত গরু বিজিবি হাট-বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে দিচ্ছেন না। এতে তাদের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে এক জোড়া ভারতীয় গরু বাংলাদেশের হাটে বিক্রি করে সন্ধ্যায় গরু ব্যবসায়ীদের ওই সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ২৫ হাজার টাকা। প্রতিদিন ওই সিন্ডিকেটের আয় লাখ লাখ টাকা। ওই টাকার ভাগ রাতেই লাইনম্যান রিমন অথবা মইনুলের মাধ্যমে চলে যায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার কাছে। এই টাকার ভাগ নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে বর্তমান দহগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোসেন ও প্রাক্তন ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সমর্থকদের মাঝে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ভারতীয় গরুর ব্যবসা সাময়িক বন্ধ হয়ে যায়। গত বুধবার রাতে ভারতীয় গরু ব্যবসা নিয়ে এ দ্বন্দ্ব নিরসনে ওই সিন্ডিকেটের সমঝোতা বৈঠক বসে। অবশেষে উভয়ের মধ্যে ওই বৈঠকে সমঝোতা হলে গত চারদিন ধরে আবারও ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দেদারছে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। ভারতীয় গরু প্রবেশের ফলে তারা নিজের পালিত গরুটি বিক্রি করতে পারছে না। এ ছাড়া ভারতীয় গরু প্রবেশের কারণে লোকসানের মুখেও পড়েছে দেশীয় গরু খামার মালিকরা।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, বর্তমান চেয়ারম্যান কামাল হোসেনসহ একটি সিন্ডিকেট ভারতীয় গরুর ব্যবসা করতে তৎপর হয়ে উঠেছে। শুনেছি বুধবার রাতে পানবাড়ী এলাকায় ওই সিন্ডিকেটের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বর্তমান চেয়ারম্যানও উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যানের সাথে আমার দ্বন্দ্ব নয়, আমি আ.লীগের দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা এলাকায় নিরাপত্তার কথা ভেবে অবৈধ ভারতীয় গরুর ব্যবসার বিরোধীতা করেছি মাত্র।

দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল হোসেন গরু ব্যবসায়ীদের ওই সমঝোতা বৈঠকে উপস্থিত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বর্তমানে ভারতীয় গরু আসছে না বললেই চলে। কিছুদিন আগেও এখানে ভারতীয় গরুর রমরমা ব্যবসা ছিল। গরু ব্যবসা নিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের সাথে আমার দ্বন্দ্বের যে খবর ছড়ানো হচ্ছে তা সঠিক নয়।

পাটগ্রাম উপজেলার পানবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ইনচার্জ সুবেদার সোহেল হোসেন জানান, করিডোর বন্ধ থাকায় দহগ্রাম সীমান্ত দিয়ে এখন ভারতীয় গরু আসা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

"