কসবা সীমান্ত হাটে ক্রেতা নেই শূন্য হাতে ফিরছেন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

জালাল হোসেন মামুন, কসবা থেকে ফিরে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা বর্ডার হাটে দোকান খুলে হাত মুড়িয়ে বসে আছেন তারাপুর গ্রামের আবদুল কাইয়ুম। তার দোকানে বাংলাদেশের বিভিন্ন কোম্পানীর বিস্কুট সবই আছে। নেই শুধু ক্রেতা। দুপুর পর্যন্ত এক টাকার মালামালও বিক্রয় করতে পারেননি তিনি। লাভের আশায় এখানে দোকান নিয়ে বসলেও প্রতি হাটে তার লোকসান গুনতে হচ্ছে। আগের মতো বেচাকিনির লোভে বার বার লোকসান দিয়েও দোকান খুলছেন বর্ডার হাটের নিয়মিত ব্যবসায়ী কাইয়ুমের। তিনি বলেন, তিন মাসে আগে এ হাটে ১০-১২ হাজার টাকার মালামাল বিক্রয় করতে পারতাম। ক্রেতার অভাবে এখন মাঝে মধ্যে শূন্য হাতে মালামাল নিয়ে বাড়িতে ফিরতে হয়।

অন্যদিকে ত্রিপুরার দেবীপুরের কাপড় ব্যবসায়ী ফুল কুমার বলেন, অলস সময় কাটাতে এখনে আসি। ব্যবসা নেই। খরচের তালিকা লম্বা হলেও বিক্রয়ের তালিকা অনেক ছোট। ক্রেতার অভাব। তিনি আরো বলেন এ হাট চালু হওয়ার পর থেকে প্রতি হাটে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার কাপড়চোপড় বিক্রি করতাম। গত তিন মাস ধরে ৩/৪ হাজার টাকা বিক্রি করি। এ টাকা তো আমাদের খরচ হয়েই যায়। মাঝখান থেকে পুঁজি হারাচ্ছি।

সরেজমিনে গত রোববার দুপুরে কসবার তারাপুর ও ত্রিপুরার কমলাসাগর মধ্যে বর্ডার হাটে গেইটে গিয়ে দেখা যায়, বিজিবি সদস্যদের কার্ড দেখিয়ে হাটে প্রবেশ করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। যাদের কার্ড নেই তারা বাদ পড়ে বাজারের চৌহুদ্দীর বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। হাটের ভেতর নেই কোলাহল। নেই লোকজনের ছুটাছুটি। স্বল্প সংখ্যক লোকজন থাকলেও যে যার মতো করে কেনাকাটা করছেন। হাটের উত্তর দক্ষিণে লম্বায় শেড করে রাখা হয়েছে। পূর্বদিকের শেডে ত্রিপুরা ও পশ্চিমপাশের শেডে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসে আছেন। নিয়ম অনুযায়ী ২৫ জন ত্রিপুরার ও ২৫জন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা দোকান খুলে বসতে পারবেন। কিন্তু ওইদিন ত্রিপুরার ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি থাকলেও বাংলাদেশের শেডের বেশ কয়েকটি দোকান খালি রয়েছে। হাটে ত্রিপুরা ক্রেতার সংখ্যা নগণ্য হলেও বাংলাদেশী ক্রেতার সংখ্যা বেশ ভাল। তারা ভারতের বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনছেন। আর ত্রিপুরার ক্রেতা বাংলাদেশের দোকানগুলোতে ঘুরে ঘুরে মোবাইলে সেলফি তুলে ফিরে যাচ্ছেন। এ নিয়ে কথা হয় কসবার মামুন ও ত্রিপুরার কমলাসাগর মিয়ার রতন মিয়ার সাথে। তারা বলেন, আগে এ বাজারে প্রচুর লোকজন আসত। লোকজনের ভীড়ে বাজারে ঢুকা যেত না। বর্তমানে লোক সমাগম নেই বলেই চলে। এখন ফাঁকা ফাঁকা লাগছে বাজারটি।

সপ্তাহে একদিন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কসবার তারাপুর ও ত্রিপুরার কমলাসাগর মধ্যে ২০১৫ সালের জুন মাসে বর্ডার হাটটি চালু হয়। প্রত্যেক রোববার বসে সীমান্ত হাটটি। হওয়ার পর থেকে জমজমাট ছিল। অতিথি কার্ড বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় তিন মাস ধরে ক্রেতা সংকট চলছে। এতে কারণে দুইদেশের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে ত্রিপুরার ব্যবসায়ীদের চাইতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বেশি লোকসানের স্বীকার হচ্ছেন। প্রথমে ত্রিপুরা পরে বাংলাদেশ অতিথি কার্ড বন্ধ করে দেওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে বর্ডার হাটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

জানাগেছে, নিয়ম অনুযায়ী উভয় দেশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থানরত নাগরিকরা নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে বার্ষিক কার্ড করে ওই বাজারের প্রবেশের অনুমতি পান। তাছাড়া নির্ধারিত পাঁচ কিলোমিটারের বাইরের নাগরিকদের জন্য রাখা হয়েছে অতিথি কার্ড। তারা অতিথি হিসেবে নিজ নিজ দেশের সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে অতিথি কার্ড গ্রহণ করে ওই বাজারে প্রবেশের অনুমতি লাভ করেন। কিন্তু ত্রিপুরা সরকার চলতি বছরের ২৯ জুলাই থেকে অতিথি কার্ড দেয়া বন্ধ করে দেয়। এতে ওইপারের ক্রেতার সমাগম কমে যায়। এ নিয়ে এপারের ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করেন। পরে ১২ আগস্ট কসবা উপজেলা প্রশাসন অতিথি কার্ড দেয়া বন্ধ করেন। এ কারণেই সীমান্ত হাটে ক্রেতা কমে গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, নিয়ম অনুযায়ী হাটের দিনে বাংলাদেশ এক হাজার অতিথি কার্ড ও ত্রিপুরা এক হাজার অতিথি কার্ড দিবেন। এ হাট চালু হওয়ার পর থেকেই কসবা উপজেলা প্রশাসন এক হাজার অতিথি কার্ড বিতরণ করলেও ত্রিপুরা পাঁচশ অতিথি কার্ড বিতরণ করতেন। এ নিয়েও বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল।

এ নিয়ে কথা হয় কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বর্ডার হাট ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য হাসিনা ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের প্রতিবাদে অতিথি কার্ড বন্ধ করে দেয়ায় হয়েছে। এ বিষয়ে বিজিবি ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে: কর্নেল মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আমাদের কাজ হল বর্ডার হাটে প্রবেশকারীদের কার্ড দেখা আর তাদের নিরাপত্তা দেয়া।

 

"