রানীনগরে বয়তুল্লাহ্ সেতুর সংযোগ সড়কে ধস

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর রানীনগরে বয়তুল্লাহ্ সেতুটির রাণীনগরের অংশের প্রায় ৪০০ মিটার সংযোগ সড়কে ধ্বস নেমেছে। এছাড়াও সড়কের প্রায় ৮টি জায়গায় বড় ধরণের গর্ত হয়েছে। রাতের অধারে গাড়ি চলাচল করতে গিয়ে যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে।

রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া নামক স্থানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম ডেপুটি স্পীকার মরহুম বয়তুল্লাহ্’র নামে এই সেতুটি নির্মিত করা হয়। সেতুটির নিমার্ণ কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক ভাবে উদ্বোধন করা না হলেও এই জনপদের বসবাসকারী প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবন-যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সেতুটি সর্ব সাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু ইদানিং সেতুটির দুই ধারের সংযোগ সড়কে বেহাল হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্টদের যথাযথ নজরদারির অভাবে যে কোন সময় সড়কের মাটি ধ্বসে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয়রা।

দীর্ঘ ৩৪ বছর পর নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনের সংসদ সদস্য মো. ইসরাফিল আলম উপজেলা সদর থেকে ১৪কিলোমিটার পশ্চিম-দক্ষিনে আত্রাই নদীর ওপর সেতুটি নির্মানের উদ্যোগ নেয়। নদীটির জামালগঞ্জ-বান্দাইখাড়া নামক স্থানে প্রায় ১০কোটি টাকা ব্যয়ে সাবেক ডেপুটি স্পীকার মরহুম বয়তুল্লাহ্’র নামে সেতুটি নির্মাণ করা হয়।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১২-১৩ অর্থ বছরে নওগাঁর সড়ক ও জনপদ বিভাগ হতে স্থানান্তরিত ১৭৫ মিটার আরসিসি গাডার ব্রিজের নির্মাণ প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়। জিওবি তহবিলের আর্থিক সহযোগিতায় উপজেলা প্রকৌশলীর বাস্তবায়নে ২০১২ সালের ১৬জুলাই দরপত্রের বিজ্ঞতি প্রকাশ করে। পরে বগুড়া জেলার আদমদিঘী উপজেলার সান্তাহার মহল্লার এস এন্ড এম জেভি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বতাধিকারী মো. সোহেল দরপত্রের শর্ত মোতাবেক আত্রাই নদীর ওপর সেতু নির্মানের কাজটি পায়। প্রায় ১০কোটি টাকা ব্যয়ে সাবেক ‘ডেপুটি স্পীকার মরহুম বয়তুল্লাহ্ সেতু’ নামে এর নাম করন করা হয়। ওই বছরের ১০সেপ্টেম্বর সেতুটি নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলম এমপি। সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষে হলে উদ্বোধনের আগেই চলাচলের জন্য হালকা যানবাহনে চড়ে পায়ে হেঁটে চলাচল শুরু করে স্থানীয়রা। পরবর্তীতে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জীবন-যাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সেতুটি উম্মুক্ত করে দেওয়া হয়। কিন্তু সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে সাধারণ মানুষ।

রাণীনগর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাইদুর রহমান মিঞা বলেন, ‘সেতুটির সংযোগ সড়কের দুই পাশেই বৃষ্টির পানিতে মাটি গুলো সড়ে যাচ্ছে। যার কারণে সেতুর মুখে সংযোগ সড়কে বড় ধরণের গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই সংযোগ সড়কটি মেরামতের জন্য প্রস্তাবনা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত মেরামত করা শুরু করা হবে।’

 

"