৫ বছরে শতাধিক দুর্ঘটনা

ফেনী রেলগেটে ট্রেনের মুখে ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল

প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী

ফেনী কলেজ রোড ও হাসপাতাল রোডের রেলগেটে ট্রেন আসার সিগন্যাল পড়ার পরও প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যান চলাচল করায় বাড়ছে দুর্ঘটনা। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে শহরে আসা লোকজন এ দুর্ঘটনার মুখে পড়ছে। গত ৫ বছরে শতাধিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৫০ জন মারা গেছেন বলে এক হিসাবে দেখা গেছে।

শহরের অন্যতম রেলগেট এটি। এ সড়কে রেলরাস্তাটি সড়ক পথের উপর দিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দিকে চলে গেছে। ফলে ট্রেন যাওয়ার সময় দুইপাশের যান আটকা পড়ে। এখানে গেট ও সরকারি গেটম্যান থাকলেও নিয়ম মানছে না গাড়ি চালকরা। ২ গেটের ফাঁকে পথচারী পার হবার রাস্তা দিয়ে রিকশা ভ্যান, সিএনজি ও ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা প্রতিনিয়ত পার হচ্ছে। ট্রেন একেবারে কাছে চলে আসলেও এসব পরিবহন চলাচল অব্যাহত থাকে। অনেক সময় ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে এসব যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি চালক ও যাত্রীরা প্রাণ হারায়।

রেলওয়ে কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছরে শতাধিক দুর্ঘটনার পাশাপাশি অন্তত মারা গেছে ৫০ জন যাত্রী বা পথচারী। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শহরের হাসপাতাল সড়কের প্রধান রেলগেটে ৩ জন গেটম্যান নিয়োজিত রয়েছে। এর মধ্যে ১ জন সরকারি আর বাকি ২জন দৈনিক বেতনে চাকরি করছে। ১ জনে ৮ ঘন্টা করে এরা ৩ জনে ২৪ ঘন্টা দায়িত্ব পালন করে।

গেটম্যান মাহমুদুল হাসান জানায়, সিগন্যাল চলাকালে ১ জনের পক্ষে অবৈধভাবে যান চলাচল ঠেকানো সম্ভব হয় না। সে অবৈধ পারাপার ঠেকানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চালকরা তার কথায় কর্ণপাত করে না। এছাড়া রেলের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত পুলিশ ও আরএনবির সদস্যরা স্টেশন ও ট্রেনের নিরাপত্তা দিতে গিয়েও জনবল সংকটের কারণে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে ট্রেন পার হবার সময় সড়কে অবৈধ গাড়ি প্রবেশ ঠেকাতে দায়িত্ব পালন করার মতো জনশক্তি তাদের নেই।

এদিকে ফেনী পৌরসভার সহদেবপুর এলাকায় নতুন একটি গেট নির্মিত হয়েছে। গেট নির্মাণের আগে এলাকাবাসীর নামে চাঁদার রসিদ বানিয়ে গেট পারাপারে গাড়ি প্রতি ৫ টাকা আদায় করা হতো। বর্তমানে ঐ গেটে রতন ও সোহেল নামে ২ জন গেটম্যান নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তার দায়িত্বপালন করলেও এলাকাবাসীর নামে ৫ টাকা করে চাঁদা আদায় থামছে না। এ ব্যাপারে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এ রোডের চালকরা। এমনিতেই পৌরসভার টোল দিতে হয় অনেক টাকা তার উপর বাড়তি চাঁদাবাজিতে তারা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরব আলী মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেরও আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে রেলগেটে ট্রেন পার হওয়ার সময় যান চলাচল বন্ধ রাখতে বছর দুয়েক আগে আনসার সদস্যদের নিয়োগ দেয়া হলেও অদৃশ্য কারণে তাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। বর্তমানে গেটম্যান ছাড়া সেখানে আর কেউ নেই। ফলে গেটম্যানের একার পক্ষে গেট নিয়ন্ত্রণ ও গাড়ি প্রবেশ ঠেকানো সম্ভব হয় না। আনসার সদস্যরা থাকাকালে ট্রেন চলাকালে কোন যান পার হতে পারেনি। বর্তমানে ট্রেন চলাকালে অনেক সময় ট্রেনের নিচে চাপা পড়ছে ছোট গাড়ি।

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা শহরে নিষিদ্ধ হলেও তারা ট্রাফিক সিগন্যাল এড়িয়ে রেলগেটে সড়কের উপরে স্থায়ী স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে। এ সড়কে কয়েকশো অটো চলাচল করে। এসব অটোর কারণে রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় যানজটের পাশাপাশি ট্রেন চলাচলে ঘটছে দুর্ঘটনা। ট্রেনের নিচে চাপা পড়ে দুর্ঘটনার শিকার বেশিরভাগ যানবাহন হলো অটোরিকশা। ট্রেন আসার সিগন্যাল দেয়ার পরও তাড়াহুড়া করে রাস্তা পার হতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা বলে জানালেন পরিবহন সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।

হাসপাতাল রোড রেলগেটের এ অনিয়মের বিষয়ে জানতে ফেনী রেলওয়ের উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী কার্য আতিকুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, পূর্বে এ রেললাইনে ৪ টি বেরিয়ার ছিল। কিন্তু সড়কের উভয় পাশে যানজট লেগে যাবার কারণে ২ টি বেরিয়ার খুলে সিগন্যাল চলাকালে সীমিত আকারে যান চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। কিন্তু বিষয়টি হীতে বিপরীত হয়েছে। বর্তমানে যে দুর্ঘটনা ঘটছে সে বিষয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন বলে নিশ্চিত করেন।

 

"