মির্জাগঞ্জের রানীপুরে জোয়ারের পানিতে ৮ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার রানীপুর গ্রামে জোয়ারের পানিতে ৮ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পায়রা নদীর ৪১/৭ নং পোল্ডারের রানীপুর গ্রামে বেড়িবাধ না থাকায় এমনটা হয়েছে বলে দাবি স্থানিয়দের।

উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের রানিপুর গ্রামের মুনসুর আলী সিকদার বাড়ির উত্তর পাশ থেকে মজিদ চৌকিদার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ফুট জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে বেড়িবাধ নেই। ফলে প্রায় দুই মাস ধরে প্রতিদিন অমাবশ্যার জোয়ারের পানিতে রানীপুর, হাজিখালী, মেন্দিয়াবাদ, চরখালী, দেউলী, চত্রা ও চন্দ্রকান্দা গ্রামগুলো পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। ভোগান্তীতে পড়েছে ওই এলাকার কৃষকসহ স্থানিয় জনসাধারনরা। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় ওই এলাকায় তিন শাতধিক পরিবার উনুনে হাড়ি বসাতে পারেনি বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য। রানীপুর গ্রামের মো. সানু মিয়া বলেন, ‘ভাঙা বাধ দিয়ে প্রতিদিন দুই বার করে জোয়ারে পানিতে প্লাবিত হচ্ছে কয়েকটি গ্রাম। পায়রা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রানীপুর গ্রামটি পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সকাল থেকে একটানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় এ এলাকার অনেকেই ঘর থেকে বের হতে পারেনি।’ বাধ নির্মাণ করা হলে কোমলমতি শিশুদের মেন্দিয়াবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে পারে সে লক্ষে উর্ধ্বতন কৃর্তপক্ষের দৃষ্টি দেয়ার দাবি স্থানিয়দের।

রানিপুর এলাকার ইউপি সদস্য মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘তিনমাস আগে এখান থেকে বাধ ভেঙে গেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাধ মেরামত করেতে আসলেও জমি নির্ধারন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। ফলে বাধটি আর নির্মান করা হয়নি। তাই জোয়ারের পানি প্রবেশ করেতে করতে বাধের ভাঙন পাঁচশো ফুট থেকে এক হাজার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় দুইটি সরকারি স্কুলের পড়াশুনা এখন বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। গতবারেও একই স্থানে বাধ ভেঙে গেলে মাটির বস্তা দিয়ে ভাঙন প্রতিরোধ করা হয়েছিলো। কিন্তু এবারে ভাঙনের তীব্রতা আরো বেশী। ভাঙা বাধ দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবেশ করায় এ এলাকার আমনের বীজতলা ডুবে থাকায় অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধ করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকার্ষন করেন।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তৌছিফ আহমদ ইসলাম বলেন, ‘রানীপুর ও মেন্দিয়াবাদ ভাঙা বাধ সংস্কারের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

 

"