রানীশংকৈলে ইচ্ছামতো খোলা হয় কমিউনিটি ক্লিনিক

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

রানীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ইচ্ছে মত খোলা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। উপজেলার মোট ২৬টি ক্লিনিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রাতোর ইউনিয়নের আটকড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে। এ ক্লিনিকের দায়িত্ব প্রাপ্ত সিএইচসিপি সারোয়ার হোসেন রতন কমিউনিটি ক্লিনিকে বসেন নিজের ইচ্ছেমত। তিনি কর্মদিবসের বেশিরভাগ সময় থাকেন ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে।

সম্প্রতি সরজমিনে উপজেলার কয়েকটি কমিউনিটি ক্লিনিক ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ ক্লিনিকগুলো নির্দিষ্ট সময়ের অনেক পরে খোলা হচ্ছে। উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের আটকড়া ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১১টা বাজলেও ক্লিনিকে তালা ঝুলছে। আশপাশের লোকজন এ প্রতিবেদককে দেখে বলেন, এখানকার চিকিৎসক স্বাস্থ্য সেবা দেওয়ার চেয়ে মাতাম্বরি করে বেড়ান। মাঝে মাঝে ক্লিনিকে বসলেও আধা ঘন্টার বেশি তিনি থাকেন না। এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে সারোয়ার হোসেন রতনের মুঠোফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।

একইভাবে ৮ নং নন্দুয়ার ইউপির ভন্ডগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিকে সকাল সাড়ে ১০ টায় গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে। পরে প্রতিবেদকের উপস্থিতিতেই সকাল ১০ টা ৫২ মিনিটে এসে ক্লিনিকের তালা খোলেন স্বাস্থ্য সহকারী ওয়াহিদা আকতার।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, এ ক্লিনিকের সিএইচসিপি রওশানার বেগম হত্যা মামলার আসামী হিসেবে কারাবন্দী থাকায় গত ২৯ মে ২০১৭ সালে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে স্বাস্থ্য সহকারী ওয়াহিদা আকতার নিজের দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাবে সিএইচসিপির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তবে তার কাজ বেশির ভাগ সময়ে বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জে হওয়ায় তিনি ঠিকমত ক্লিনিকে বসতে পারেন না। তাই ঐ গ্রামের লোকজনের দাবী এই ক্লিনিকে একজন সিএইচসিপি নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা সেবার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার। সিএইচসিপির অভাবে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ভন্ডগ্রাম বাসী।

একইভাবে চেকপোষ্ট, আরাজী চন্দন চহট এলাকার কমিউনিটি গুলো নির্দিষ্ট সময়ের পরে খোলে এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে বন্দ করে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীম আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষযটি আমি অতি গুরত্ব সহকারে দেখছি। আমি খুব শ্রীঘই একটি মিটিং ডেকে সমস্যা সমাধানে ব্যাবস্থা নিবো।’

 

"