গুরুদাসপুরে জিংফসফাইড বিষ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

এস এম ইসাহক আলী রাজু, গুরুদাসপুর (নাটোর)

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে আলু আর ময়দার সঙ্গে জিংফসফাইড বিষ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে ইঁদুর মারার ট্যাবলেট।

অনুমোদনহীন, অপেশাদার কিছু মানুষ জীবিকা হিসেবে ভয়ানক অনুমোদনহীন এ পেশা বেছে নিয়েছে। শুধু আলু ও ময়দা মিশিয়ে এটা তৈরি হচ্ছে তা নয়। গম ও শুটকির সঙ্গে বিষ মিশিয়েও তৈরি হচ্ছে এই ইঁদুর মারার ওষুধ। গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় হাট, নাজিরপুর হাট, কাছিকাটা হাটসহ পাশের বড়াইগ্রাম উপজেলার মৌখাড়া, লক্ষীকোল ও সিংড়ার বিলদহরহাটে হাত মাইকে ফলাও করে বিক্রি হচ্ছে এসব ক্ষতিকর বিষ। কিন্তু প্রশাসনিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক রবিউল করিম শান্ত জানান, জিংফসফাইড কালো রংয়ের পাউডার। এটা খাওয়ার পর শুধু ইঁদুর নয় মানুষ ও পশুপাখি খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মারা যায়। পক্ষান্তরে ইঁদুর মারার জন্য ক্লোরেট, ব্রোমা পয়েন্ট, ল্যানিরেট, রেটকিলারে বিষ অপেক্ষাকৃত সহনীয় মাত্রার। তা ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে এসব ওষুধ খালি হাতে তৈরি ও ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাৎক্ষণিক এর বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত না হলেও ধীরে ধীরে ক্ষতিকর প্রভাব শরীরে পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলার নাজিরপুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, আলুর সঙ্গে ময়দা ও জিংফসফাইড নামে উচ্চ মাত্রার কীটনাশক বিষ মিশিয়ে তৈরি করা ইঁদুর নাশক বড়ি বিক্রি হচ্ছে। ওই ইঁদুরনাশক তৈরি করার সময় হাতে কোনো রকম গ্লাভস ব্যবহার করা হচ্ছে না। খালি হাতেই কাগজে কিংবা পলিথিনে ভরে বিক্রি করা হচ্ছে চাটাই বিছিয়ে। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ কিনছে দল বেঁধে। কথা বলে জানা যায়, ওই বিক্রেতার নাম সাদেক আলী (৩০)। নাটোর সদর থানার হালসা গ্রামে তার বাড়ি। ১০ বছর ধরে তিনি এ পন্থায় ওষুধ তৈরি করে নাজিরপুর, লক্ষীকোল, মৌখাড়া হাটে বিক্রি করেন। এটিই তার জীবিকা। ১০টাকায় ২০টি ইঁদুর মারার বড়ি বিক্রি হয়। তবে গম বা শুটকি মাছের ওষুধের দাম অনেক বেশি। প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জনের কাছে তিনি এ বড়ি বিক্রি করেন।

ওই বিক্রেতার ভাষ্যমতে, তার মতো কমপক্ষে ১০ জন ইঁদুরের ওষুধ হাতে তৈরি করে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রি করেন।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল করিম বলেন, অনুমোদন ছাড়া খোলা বাজারে এ ধরনের বিষযুক্ত ওষুধ বিক্রি করার বিধান নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 

"