অর্থের বিনিময়ে রেলের জমি বরাদ্দ!

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

রুহুল আমিন রিপন, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে রেলওয়ের সরকারি জমি বরাদ্দের হিড়িক পড়েছে। অভিযোগ, রেলওয়ে স্টেশনের দুই পাশে প্লট আকারে রেলওয়ের জমি বরাদ্দ দিচ্ছে এক প্রভাবশালী চক্র। আর এসব জমিতে উঠছে স্থায়ী-অস্থায়ী স্থাপনা। কিন্তু অপতৎপরতা বন্ধে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট দফতররা।

জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনটি ময়মনসিংহ-ভৈরব রেললাইনের মধ্যে পড়ে। ভৈরব থেকে গৌরীপুর আউটার লাইন পর্যন্ত রেল সড়ক ও রেলওয়ে সম্পত্তি দেখভাল করা হয় ভৈরব রেলওয়ে জংশন থেকে। গত কয়েক বছর ধরে ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের হোম সিগন্যাল এলাকায় রেলওয়ের জমিতে চলছে বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ। স্থায়ী ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ চলছে। তবে স্থাপনা নির্মাণকারী ব্যক্তিরা সবাই জমি দখল পেয়েছেন টাকার বিনিময়ে। গত কয়েক দিন ধরে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছে ঈশ্বরগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকাটিতে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেলওয়ে স্টেশনটির বাম দিকে অন্তত ২৫টি প্লটে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ইয়াসিন মিয়া নামের এক ব্যক্তির ঘর নির্মাণের কাজ চলছে গত কয়েক দিন ধরে। ইয়াসিন মিয়ার পাশেই নতুন ঘর তুলে বসবাস শুরু করেছেন কালী প্রদ সাহা।

তিনি জানান, তার ছেলে স্থানীয় হারিছ উদ্দিনের কাছ থেকে জমিটুকু কিনেছে। কিন্তু স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে প্রতিটি প্লট ৪০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বরাদ্দ হয়েছে।’ বসতঘরের পাশেই আবু সাঈদ নামে এক ব্যক্তি নার্সারি করেছেন। তিনি জানান, প্রথমে বাৎসরিক ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে হারিছ উদ্দিনের কাছ থেকে জমিটুকু নিলেও গত কয়েক মাস আগে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে জমি টুকু নেন। সম্প্রতি রেলওয়ে স্টেশনটির ডান দিকের অংশে জমি বরাদ্দের কাজ শুরু হয়েছে। সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তি তিনটি প্লট বরাদ্দ করেছেন। এতে ইতোমধ্যে তিনটি বসতবাড়ি হয়েছে।

প্রদৗপ গৌঁড় নামের এক রিকশা চালক জানান, গত কিছুদিন আগে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে সাদ্দামের কাছ থেকে জমিটুকু কিনেছেন।

হারিছ উদ্দিন বলেন, তার নামে ৭০ শতক জমি লিজ রয়েছে। গরিব লোকজনকে সামান্য টাকার বিনিময়ে এখানে থাকতে দিয়েছেন। বরাদ্দ করা হয়নি। সাদ্দাম হোসেনও রেলওয়ের জমি বরাদ্দের কথা অস্বীকার করেন।

ঈশ্বরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন, রেলওয়ের জমিতে ঘর হচ্ছে দেখে তিনি গত ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর জিআরপি ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। এ ছাড়া দখল হওয়ার বিষয়টি তিনি নিয়মিত কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু বিষয়টি দেখভাল করে অন্য দফতর। সে কারণে এখানে তাদের কিছুই করার নেই। তিনি আরো জানান, রেলওয়ের জমি বেচাকেনার বিষয়টি শুনেছেন। তবে কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে তাদের কিছুই করার নেই।

 

"