গফরগাঁওয়ে স্কুলের জমি দখল করে ধান চাষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ধোপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে ধান চাষ করার অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক স্কুলের জমি উদ্ধারে ইউএনও ও এসিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা করে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৮ সালে উপজেলার ৪২ নং ধোপাঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠিত হয়। তখন প্রতিষ্ঠানটির ৬৭ শতাংশ জমি ছিল। বর্তমানে বিদ্যালয়ের কত শতাংশ জমি রয়েছে তা বলতে পারেননি শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, ৬৭ শতাংশ জমির মধ্যে বর্তমানে বিদ্যালয়ের দখলে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি রয়েছে। বাকী জমি বেদখল হয়ে গেছে। বেদখল হওয়া জমির অধিকাংশই বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ প্রধান শিক্ষক হারুনুর রশিদের ছেলে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি এবিএম নাজমুল আলমের দখল করে ধান চাষ করেছেন। এছাড়াও বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের মাঠ দখল করে স্থানীয় কয়েকজন গড়ে তুলেছেন মোদি দোকান। এভাবেই চলছে বছরের পর বছর ধরে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মূল ফটকের পর থেকেই মাঠ দখল করে সারিবদ্ধভাবে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি মনোহারি দোকান। এ সময় দোকানিরা সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সটকে পড়েন। এদিকে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বিলবোডে বিদ্যালয়ের দাগ, খতিয়ানসহ ৬৭ শতাংশ জমির কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের দখলে কত শতাংশ জমি রয়েছে তা বলতে পারেননি কেউ।

বিদ্যালয় কতৃপক্ষের দাবী, দোকানগুলো উচ্ছেদে স্কুল কতৃপক্ষ বেশ কয়েকবার নোটিশ দিলেও কোন লাভ হয়নি। একটি দোকানঘরও ভাঙা হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাবেয়া পারভীন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মোট জমির পরিমান ৬৭ শতাংশ। তবে এখন কতটুকু দখলে রয়েছে সেটি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। তবে তিনি ৫০-৫৩ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের দখলে থাকার ধারনা করছেন। তাই সরকারিভাবে উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছি।’

ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নাজমুল আলম মুঠোফোনে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মোট ৬৭ শতাংশ জমি থাকলেও রেকর্ড হয়েছে ৫৩ শতাংশ। তবে বিদ্যালয়ের দখলে কিছুটা কম রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করেননি বলে দাবী করে আরো বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে যে সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে এর কিছু এরই মধ্যে সড়ানো হয়েছে। বাকিগুলো আগামী এক মাসের মধ্যে সড়ানো হবে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষককে সাথে নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের কথা বলেছি। আশা করছি শিগশির এ বিষয়ে একটা সমাধান করা সম্ভব হবে।’

ইউএনও ডা. শামীম রহমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা অফিসার ও প্রধান শিক্ষক আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। আমি বলেছি বেদখল হওয়া জায়গা মেপে দখল নিতে। স্কুল কতৃপক্ষ যদি দখল নিতে ব্যর্থ হন তাহলে আমরা আইনগতভাবে সহযোগিতা করব।’

 

"