নারগুন আদিবাসী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষক ও ক্লাসরুম সংকট

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

হরিপুর (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার যাদুরানীবাজার নারগুন আদিবাসীপাড়ায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘নারগুন আদিবাসী বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। শুরু থেকে বিদ্যালয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত হয়ে আসছে।

বিদ্যালয়টিতে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান। এখানে রয়েছে ৫৩ জন শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন ধরে ভবন সংকটে ভুগছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার যাদুরানীবাজার নারগুন আদিবাসীপাড়ায় ২০০৫ সালে সরকারি ভাবে একটি কমিউনিটি সেন্টার স্থাপিত হয়। কমিউনিটি সেন্টারে আদিবাসীদের সন্তানদের নিয়ে বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতে থাকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত। বিদ্যালটি সরকারের নজরে আসলে কমিউনিটি সেন্টারে আদিবাসী শিক্ষা উন্নয়নের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে চালু করা হয় পাঠদান কার্যক্রম। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে ছোট ছোট দুটি আধা পাকা ইটের দেয়াল ও টিনের ছাউনির কক্ষ রয়েছে। একটিতে পড়ানো হয় প্রাথমিক ২৩ জন শিশুকে আর অন্যটিতে প্রথম শ্রেণির ৩০ জন শিশুকে। জায়গার অভাবে গাদাগাদি করে বসতে হয় তাদের। বিদ্যালয়ের দুটি শ্রেণিতেই চিন্তা মনি মূর্মূ নামে একজন শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দিপাটুদু নামে একজন রয়েছে সেচ্ছাসেবী হিসেবে। বিদ্যালয়টিতে শুরু থেকে বাংলা ভাষা ও আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি সনিরাম হেমরম বলেন, ‘কমিটির মাধ্যমে এই বিদ্যালয়ে চিন্তা মনি মূর্মূ নামে একজন শিক্ষিকাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে প্রাথমিক শিক্ষা ও প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। সরকারি ভাবে উপজেলা প্রাথমিক অফিস থেকে পাঠ্য বই দেওয়া হয় কিন্তু উপবৃত্তি দেওয়া হয় না।’

তিনি আরো জানান, এই উপজেলায় আদিবাসী ৯টি গ্রাম রয়েছে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা বিদ্যালয়মুখী হচ্ছে। মাত্র দুটি কক্ষ দিয়ে বিদ্যালয় চালানো যায় না।

ইউএনও এম জে আরিফ বেগ জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থায়নে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককে মাসে তিন হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের জন্য বেঞ্চ, টেবিল, প্রয়োজনীয় খেলনা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

"