অতিরিক্ত বরাদ্দ থাকলেও চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে ইউরিয়া

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আমনের ভরা মৌসুমে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার। ফলে বাধ্য হয়ে কৃষককে অতিরিক্ত মুল্যে সার কিনতে হচ্ছে। তা ছাড়া বিসিআইসির ইউনিয়নভিত্তিক ১৪ জন ডিলার কাগজে থাকলেও অধিকাংশ ডিলারের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ সুযোগে খুচরা ফড়িয়া, ব্যবসায়ীরা বেশি দামে সার বিক্রি করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৮ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে আমন ও রোপা আমনের চাষ হয়েছে। আমনের চাহিদা অনুযায়ী উপ-বরাদ্দসহ বিসিআইসির ইউনিয়নভিত্তিক ১৪ জন ডিলারের বিপরীতে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৬০ টন ইউরিয়া বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলার নাটনাপাড়া গ্রামের কৃষক আবদুস সোবহান জানান, আমরা স্থানীয় বাজারে ১৯-২০ টাকা কেজি দরে ইউরিয়া কিনছি। একই কথা জানান গোয়ালগ্রাম মহলদার পাড়ার কৃষক জমিরউদ্দিন। ভুক্তভোগীরা আরো জানান, বিসিআইসির ইউনিয়নভিত্তিক ১৪ জন ডিলার থাকা সত্ত্বেও এলাকায় তাদের কোনো অস্তিত্ব না থাকায় তারা খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা জানান, দৌলতপুরের বিসিআইসির ডিলাররা অধিকাংশই জেলার বিভিন্ন স্থানে বসবাস করেন। সারের বরাদ্দপত্র নিয়ে তারা কী করেন তা তারা জানেন না। যে কারণে খুচরা বিক্রেতারা অন্য উপজেলায় থেকে বেশি দাম দিয়ে সার কিনে আনছেন। গত তিন-চার বছরে উপজেলার ডিলারদের কোনো স্থানে সার বিক্রয় কেন্দ্র ছিল কিনা তা এলাকাবাসী বলতে পারেনি।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ কে এম কামরুজ্জামান জানান, ডিলারদের পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ডিলারদের সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হয় বলে তিনি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও শারমিন আক্তার জানান, যদি ডিলাররা কর্তব্যে গাফিলতি করে থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"