দিনাজপুরের চড়ারহাটে গণহত্যা দিবস আজ

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মো. নুর ইসলাম নয়ন, দিনাজপুর

আজ ১০ অক্টোবর দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার চড়ারহাট গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে উপজেলার ৫নং পুটিমারা ইউনিয়নের দুটি গ্রামের ৯৮জন নিরীহ গ্রামবাসীকে পাকিস্তানী সেনারা নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। সেই থেকে দিনটিকে চড়ারহাট গণহত্যা দিবস হিসাবে পালন করা হয়।

নবাবগঞ্জ উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আঃ রহমান ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা যায়, চড়ারহাট প্রাণকৃষ্ণপুর গ্রামের দুইজন নারীসহ ৬৭জন ও পার্শ্ববর্তী আন্দোলগ্রাম সরাইপাড়া গ্রামের ৩১জন গ্রামবাসী সেদিন পাকসেনাদের গুলিতে শহীদ হয়। চড়ারহাট প্রাণকৃঞ্চপুরে পুরুষদের একত্রিত করে গ্রামের পূর্বদিকের শেষ প্রান্তে একটি বীজ তলায় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। আন্দোলগ্রামে পাকসেনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে।ভয়াল সেদিনে পাকসেনাদের গুলিবর্ষণ থেকে প্রাণে বেঁচে যাওয়া আটজনের একজন একজন শহীদ মনছের আলীর ছেলে চড়ারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল হক (৬৯)।

তিনি বলেন, সেদিন তিনি ভোরে ফজরের নামাজ পড়তে মসজিদে যান। মসজিদে ১০/১২ জন নামাজ পড়ছিলেন। নামাজ শেষে গ্রামের প্রবীন ব্যক্তি মফিজ উদ্দিনসহ অনেকেই খবর দেন পাকসেনারা ডাকছে। ভাঙ্গা সেতু নির্মাণ করতে মাটি কাটতে হবে। পরে গ্রামের পূর্ব দিকে একটি মাঠে গিয়ে দেখতে পান গ্রামের প্রায় সকল পুরুষকে একত্র করা হয়েছে। পরে পাক সেনারা নির্বিচারে ব্রাশ ফায়ার করে। এতে মোজাম্মেল হকের বাবা এবং ছোট ভাই মারা যান। তিনি বাম পা এবং ডান হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পাকসেনারা তাঁকে মৃতভেবে চলে যাওয়ায় তিনি বেঁচে যান।

সেদিন প্রাণে বেঁচে যাওয়া মৃত ইব্রাহীম সরকারের ছেলে ডা. ইয়াহিয়া সরকার বলেন, পাকসেনাদের গুলিতে তাঁরা তিন ভাই গুলিবিদ্ধ হলেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি। গ্রামের শহীদ আব্দুল গফুরের পুত্র আব্দুুর রাজ্জাক (৫৬) জানান, মসজিদে আশ্রয় নেওয়া পুরুষরা বেঁচে যান। কিন্তু পাকসেনারা বাড়ি বাড়ি তল্লাশী করে যাকেই পেয়েছে তাকেই গুলি করে হত্যা করেছে। তার বাবা ও মামা তছির উদ্দিনকে বাড়ির সামনেই পাকসেনারা মেরে ফেলে বলেও জানান তিনি।

এদিকে, স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও শহীদরা কোন মর্যাদা না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শহীদ পরিবারের সদস্যরা। মেলেনি সরকারি কোন সাহায্য সগযোগিতাও। বাবা ও ভাইকে হারানো গুলিবিদ্ধ মোজাম্মেল হক বলেন, সরকার থেকে যারা শহীদ হয়েছিলো তাদের জন্য মাত্র এক হাজার টাকা দেয়া হয়েছিলো।

"