অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ

কচাকাটায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকসহ আটক ২

ডোবা থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানা এলাকার সরকারটারী গ্রামে ডোবা থেকে এক নবজাতকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগে স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক সহ দুইজনকে অটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী। আটক সহিদুল শহিদুল ইসলাম উপজেলার কচাকাটা ইউনিয়নের সরকারটারী গ্রামের অছিয়ত আলীর ছেলে এবং ফরিদুল বল্লভেরখাস ওই ইউনিয়নের চর রহমানের কুটি গ্রামের মালেক শিকদারের ছেলে। কচাকাটা থানার ওসি ফারুক খলিল তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গতকাল মঙ্গলবার (৯ অক্টোবর) সকালে কচাকাটা ইউনিয়নের সরকারটারী গ্রামের একটি ডোবায় এক নবজাতকের মরদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী। মৃত শিশুটি অবৈধ গর্ভপাতের হতে পারে বলে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। এ সময় এলাকাবাসী এই কাজে জড়িত সন্দেহে কচাকাটা বাজারের জননী ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম ও গর্ভপাতের শিকার জনৈক কিশোরীর ফুপা ফরিদুল ইসলামকে আটক করে। এ সময় তারা এলাকাবাসীর কাছে অবৈধ গর্ভপাতের বিষয়টি স্বীকার করে বলে জানায় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর আগে কিশোরী মা অন্যত্র সটকে পড়েন। পরে এলাকাবাসী কচাকাটা থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে এবং সহিদুল ও ফরিদুলকে থানায় নিয়ে যায়। গর্ভপাতের শিকার কিশোরী ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আটক ফরিদুল ওই কিশোরীর ফুফা বলে জানায় এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জননী ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের মালিক শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নিজবাড়িতে অবৈধ গর্ভপাতের বাণিজ্য করে আসছে। চিকিৎসক হিসেবে শহিদুলের কোনও সনদ নেই তবুও সে নিজেকে চিকিৎসক দাবি করে মানুষের চিকিৎসা করে। সে কচাকাটায় জননী ডায়াগনিষ্টিক সেন্টার খুলে অবৈধভাবে ক্লিনিকের ব্যবসা চালিয়ে আসছে বলে অভিযোগ করে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে কচাকাটা থানার ওসি ফারুক খলিল বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।’ এ ব্যাপারে জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম জানান, কচাকাটায় জননী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্লিনিক হিসেবে কোনও অনুমোদন নেই। আমি খুব শিঘ্রই সেখানে একটি টিম পাঠাবো। তারা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"