সৈয়দপুরে রেলওয়ের সম্পত্তি দখলদারদের কবলে

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

জহুরুল ইসলাম খোকন, সৈয়দপুর (নীলফামারী)

সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়া পানি ট্রাঙ্কি সংলগ্ন এলাকায় রেলওয়ের জমিতে প্রকাশ্য দিবালোকে বহুতল ভবন নিমার্ণ করে চলেছেন এক প্রভাবশালী। দখলদার ওই ব্যক্তিটি দখলকৃত জমির বৈধ কাগজপত্র থাকার কথা বললেও তিনি কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এভাবেই রাতারাতি বা দিনদুপুরে গড়ে উঠছে পাকা আধাপাকা ও বহুতল ভবন। রেলসম্পদ রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা ও অবহেলায় রেলের কোয়াটার ও পতিত জমি দখল অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

১৮৭০ সালের আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা গড়ে উঠে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। গোড়ার দিকে এ রেল বিভাগের জমির পরিমাণ ছিল ৭৯৮.৯ একর। এর মধ্যে ১১০ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয় দেশের বৃহত্তর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। অবশিষ্ট্য জমির প্রায় ২০০ একরের মধ্যে কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বাংলো ও পাকা আধাপাকা কোয়াটার নির্মাণ করা হয়। অফিসার্স বাংলো ছিল ৩১টি, সাব বাংলো ১৩৯টি, দুই কক্ষ বিশিষ্ট্য বাসা ৭১১টি ও এক কক্ষ বিশিষ্ট্য বাসা ছিল ১৬০৭টি। এসবের মধ্যে বরাদ্দকৃত হলো ৯৭৪টি ও খালি পড়ে রয়েছে ১০৪৬টি। বসবাসের অনুপযোগী ২২৯টি আর ১২৩৯টি ইউনিট দখলে নিয়েছে বহিরাগতরা।

এক সময় রেলওয়ের এসব বাংলো ও কোয়াটারের চারপাশে ছিল ফাঁকা পতিত জমি। কোথাও কোথাও শুধুমাত্র রেললাইন বা পাকা সীমানার খুটি দিয়ে সনাক্ত করা ছিল। রেলওয়ের এসব সম্পত্তি ২০০৬ সাল পর্যন্ত ছিল রেলওয়ের দখলে। কিন্তু রেল কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার ঘুষ বানিজ্যের কারণে সিংহভাগ জমিই চলে গেছে এবং যাচ্ছে দখলদারদের দখলে।

রেলবিভাগের বেশ কয়েকজন জানান, ১৯৯৬ সালে যারা গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে অবসর নেন তাদের দখলে থাকা কোয়াটার ও পতিত জমিগুলি তারা মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে পজেশন বিক্রি করতে শুরু করেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রেল কোয়াটার বা বাংলোতে বসবাসকারী কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকরা তাদের বসবাসের পাশে ফাঁকা জায়গায় নতুন করে পাকা আধাপাকা ঘরবাড়ী নির্মাণ করে মোটা অংকের টাকায় অন্যের কাছে বিক্রি করছেন। এভাবে হাত বদল হতে হতে প্রায় ৩ ভাগ জমিই চলে গেছে দখলদারদের দখলে।

স্থানীয় অনেকে জানান, ২০১৬ সালের পর থেকে দ্বিগুন হারে সৈয়দপুর শহরে চলছে রেলওয়ের জমি দখল করে কেনাবেচা ও ঘরবাড়ী বা বহুতল ভবন নির্মানের কাজ। এর আগে কিছুটা হলেও দখলকারীরা আতঙ্কে ছিল। ২০১৬ সালের পর যেন বাপ দাদার মালামাল ভেবে লুফে নিচ্ছে। যার যেটা দখলের প্রয়োজন সেটি দখলের আগে সৈয়দপুর রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করতে পারলেই যেন সব বৈধ।

সরেজমিনে দেখা যায়, সৈয়দপুর শহরের পুরাতন বাবুপাড়ার পানি ট্যাঙ্কি সংলগ্ন সৈয়দ মোড় এলাকায় রেলওয়ের জমিতে প্রকাশ্য দিবালোকে ভবন নির্মাণের দৃশ্য দেখে মনে হয় যেন দখলের প্রতিযোগীতা চলছে। রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলামকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে ওই ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে বলে দখলবাজ হিরা মন্তব্য করেন। সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় দখলের প্রকৃয়া থেকে বাদ জায়নি রেলওয়ের বাংলো সহ জলাশয়গুলোও।

মোট প্রায় সাড়ে ৫ শত একরের বেশি সম্পত্তি দখলদারদের দখলে চলে গেছে বলে অনেকেরই ধারণা। এভাবে প্রতিদিনই রেলওয়ের জমি দখল করে বাসাবাড়ী, বহুতল ভবন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজ চলছেই। অবৈধ দখলদাররা ধনী ব্যক্তি হলেই মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভবন নির্মাণের অনুমতি দিয়ে সটকে পড়ছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম। আর যারা বাস্তহারা ও ভিটামাটি যাদের নেই তাদের কাছে মোটা অংক না পেয়ে ভেঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ওই সব গরিবদের ঝুপড়ি গুলো।

এ বিষয়ে কথা হয় রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী তহিদুল ইসলামের সাথে তিনি বলেন, রেলওয়ের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মদদ পান না বলে দখলদারদের বিরুদ্ধে তিনি কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন না। যার ফলে দেখেও না দেখার ভান করেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

"