ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন দফতর

ভবনটি প্রায় ৪ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মিজানুর রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন পর জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদের ঝুকিপূর্ণ ভবন থেকে বিভিন্ন দপ্তর অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে দপ্তরগুলো স্থানান্তর করা হচ্ছে। গনপূর্ত বিভাগ গত ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে দর কম হওয়ায় ভবনটি অপসারন করা সম্ভব হয়নি। এ দিকে যথা সময়ে ভবনটি অপসারন করতে না পারায় পিছিয়ে পড়ছে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৯৮৪-৮৫ ইং অর্থ বছরে ক্ষেতলাল উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মান করা হয়। সেই থেকে ভবনটিতে উপজেলার পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ এলাকার মাটির কারনে ভবনটি নির্মানের পর থেকে দেয়ালে ছোট বড় ফাটল দেখা দেয় এবং মেজে দেবে যায়। ফলে ভবনটি ধীরে ধীরে ব্যবহারে অনুপোযোগী হয়ে পড়ে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভুমিকম্প সহনশীল না হওয়ায় গনপূর্ত বিভাগ গত ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করে। ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে প্রায় ৪ বছর ধরে উপজেলার পরিষদের ১৪ টি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসার পর অবশেষে গত ১৬ ই সেপ্টেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে ১৪ টি দপ্তর তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

উপজেলা এলজিইডি অফিস সুত্রে জানা গেছে, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর নতুন ভবন নির্মানের জন্য ৪ কোটি ২০ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৮ টাকা ব্যয়ে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ৪ তলা বিশিষ্ট উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন নির্মান কাজের দায়িত্ব পায় এমসিকেই এবং আর বি জেভি তিনটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ৩১ই মার্চ থেকে কাজ শুরু হয়ে ১ বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার চুক্তি থাকলেও পুরাতন ভবন অপসারন না হওয়ায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত ভবন নির্মান কাজ শুরু করতে পারেনি।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ বলেন, ইতিপূর্বে কয়েক বার পুরাতন ভবন ও হলরুম অপসারণের জন্য নিলাম বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়েছিল কিন্তু সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে দর কম হওয়ায় পুনরায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি আহবান করা হয়। এবার সরকার কতৃক নির্ধারিত মূল্যের সমপরিমান মূল্যের দরপত্র পাওয়ার আশা করি। ইউএনও আরাফাত রহমান বলেন, ঝুকিপূর্ণ ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষনার পর গত ৪ বছর ধরে সেখানে ১৪ টি দপ্তর তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমান ভবনটির অবস্থা ভয়াবহ বিরাজ করছে তাই সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে উপজেলা পরিষদের ষ্টাপ কোয়াটারে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান রওনকুল ইসলাম টিপু চৌধূরী বলেন, ‘ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনার পর স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশে অপসারন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নতুন ভবন নির্মান কাজ দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে বলে আমি আশাবাদি।’

"