দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুট

হিজড়াদের তান্ডবে অতিষ্ঠ বাসযাত্রী ও সাধারণ মানুষ

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে হিজড়াদের দৌরাত্ম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ রুটে দিয়ে চলাচল করা যাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। অশ্লীল আচরণ ও বিভিন্ন অপকৌশলে এরা যাত্রীদের জিম্মি করে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেয়। টাকা না দিলে যাত্রীদের হতে হয় হয়রানির শিকার। অসহায়ত্বের মতো মেনে নিতে হয় তাদের দাবি। দৌলতদিয়া টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ ও ফেরিঘাট এলাকায় দাপিয়ে বেড়ায়। স্থানীয় বখাটেরা এদের সহযোগিতা করে থাকে বলে অভিযোগ আছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে থাকে। পদ্মা নদীতে প্রচ- ¯্রােত থাকা, ফেরী ও ঘাট সংকটসহ বিভিন্ন কারণে এ রুটের যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় তারা ফেরি, লঞ্চসহ বিভিন্ন কায়দায় পদ্মা নদী পারাপার হয়। যাত্রীদের এই আসা-যাওয়াতে পথে হিজড়ারা ওঁৎ পেতে থাকেন। সুযোগ বুঝে তারা লঞ্চ, ফেরি ও বাসে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করে তাদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেন। এ সময় তারা যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং জোরপূর্বক টাকা-পয়সাও আদায় করেন। অসহায় যাত্রীরা মান-সম্মানের ভয়ে টাকা দিয়ে আত্মরক্ষা করতে হয়। অহরহ ঘটছে এই ঘটনা। ঢাকাগামী যুবক সাইফুল ও বরকত উল্লাহ জানান, দুপুরে তারা কুষ্টিয়া থেকে ট্রেনে এসে দৌলতদিয়া রেলস্টেশনে নামার পর পায়ে হেঁটে ফেরী ঘটে যাওয়া পথে একদল হিজড়া তাদের পিছু নেয়। তারা দল বেঁধে ফেরীতে ওঠার পর তাদের চাহিদা মোতাবেক টাকা না দেওয়াতে যাত্রীদের গালাগালি শুরু করে। এক পর্যায় যাত্রীদের গায়ে হাত তোলে। প্রায় আধা ঘন্টা হিজড়াদের অত্যাচার ও গালাগালি শুনতে হয় যাত্রীদের। এ ধরণের ঘটনা প্রতিদনিই এ রুটের যাত্রীদের সহ্য করতে হচ্ছে।

হিজড়াদের হাতে আহত ও লাঞ্ছিত হওয়া গোয়ালন্দ মোড় এলাকার যাত্রী মাহতাফ রাহমান জানান, ঢাকা যাওয়ার পথে তিনি ফেরী পারাপার বাসের যাত্রী ছিলেন। নদী পার হওয়ার সময় ফেরীর উপরে বাস দাঁড়িয়ে। তিনি বাসের মধ্যে বসা ছিলেন। হঠাৎ কয়েকজন হিজড়া কোমর দুলাতে দুলাতে বাসে উঠে এলো। হাতে তালি মেরে, শরীর দোলাতে দোলাতে দুইজন হিজড়া যাত্রীদের কাছে গিয়ে বলছে, এ্যাই দশ টাকা দে, টাকা না দিলে অকথ্য ভাষায় যাত্রীদের গালিগালাজ করতে করতে কাউকে কাউকে কাপড় খুলে ফেলাম হুমকি ও দিচ্ছিল। আর অসহায় মানুষগুলো জলদি জলদি টাকা তুলে দিচ্ছে ওদের হাতে। একই অবস্থায় তার কাছেও টাকা দাবী করে। এ সময় তিনি টাকা দিতে অস্বীকার করায় পাশের সিটের যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তার মুখে আঘাত করে। এতে তিনি আহতও হন।

গোয়ালন্দের আরো তিন জন হিজড়াদের নামে অভিযোগ করেন মো. ঈসা মুন্সী, মো. শেখ বাবু ও বিল্লাল মৃধা। তারা জানান, ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছে গোয়ালন্দ দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে হানিফ পরিবহন গাড়ীতে উঠি। বাস ফেরীতে উঠার পর কয়েক জন হিজাড়া গাড়ীতে উঠে। শেখ বাবু বলেন, আমি বাসের গেটের সামনে ছিলাম, আমাকে ধাক্কা দিয়ে বলে সর এখান থেকে, হিজাড়া ভিরের ঢুকে গেলে যার কাছ থেকে যেভাবে টাকা নিতে শুরু করে। আমার বন্ধু ঈসা ও বিল্লাল কাছে গেলে টাকা দিতে অসম্মিত জানালে তারা দূর্ব্যবহার ও অকথ্য ভাষায় কথা বললে। একপর্যয়ে পকেট এ হাত ঢুকিয়ে দিয়ে টাকা বের করে বলে টাকা আছে দিবি না কেন? পরে তারা জোরপূর্বক ৫০ টাকা নিয়ে যায়।

এছাড়া গোয়ালন্দ উপজেলার গ্রামে গ্রামেও হিজড়ার দল উৎপাত শুরু করেছে। কারও বাড়ীতে শিশু জন্ম নিলে বা বিয়ে বাড়ীর খবর শুনলেই এরা ওই পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা না করেই চেয়ে বসে মোটা অঙ্কের চাঁদা। তাদের চাহিদা অনুযায়ী চাঁদা না পেয়ে বাড়ী-ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুরসহ নানাভাবে হয়রানী করা হয় বাড়ীর লোকজনকে। এভাবেই চাঁদাবাজি করে চলেছে হিজড়া নামধারী চাঁদাবাজরা। সরকারের অচিত অচিরেই হিজরাদের পূর্ণবাসন করা না হলে দিন দিন বেড়েই চলছে হিজরাদের তা-ব।

হিজরাদের সভাপতি মাহি বলে, কোন যাত্রী ও পথচারী ও সাধারন মানুষ এদের সাথে যদি কোন দূরব্যবহার ও জরপূর্বক টাকা পয়সা নিয়ে থাকে তাহলে আমি তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাড়ীর ইনচার্জ ইন্সেপেক্টর মোঃ লাবু মিয়া বলে, আমি হিজরাদের দেখি ঘাট এলাকায়। কিন্তু এরা যে এই অপকর্মের সাথে জরিত তা আমি জানি না। তবে এধরনের কোন অভিযোগ পেলে আইন অনুযাযী ব্যবস্থা নিবো।

"