দিনাজপুরে বৃদ্ধি পেয়েছে শিম চাষ ভালো ফলনে খুশি চাষিরা

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

দিনাজপুর প্রতিনিধি

অনুকূল পরিবেশে থাকায় দিনাজপুরে ফসলের মাঠে আগাম অটোজাতের শিমের আবাদ করেছে চাষিরা। ভাল ফলন এবং বাজার ভাল দাম পেয়ে খুশি শিম চাষিরা। এরই মধ্যে বেচা বিক্রি করে অনেক চাষি আর্থিকভাবে বেশ লাভবান হয়েছে। ফলে বদলে গেছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। স্বল্প সময়ে টাকার মুখ দেখতে পাওয়ায় দীর্ঘ মেয়াদী অর্থকরী ফসলের চাষাবাদের চেয়ে সবজি আবাদের দিকে ঝুঁকছে চাষিরা।

জেলাতে ভুট্টা আবাদের পর পরই সবজি আবাদ বেশি হয়ে থাকে। আবহাওয়া তুলনামুলক অনুকূল এবং উঁচু সমতল জমি হওয়ায় জমিগুলো সবজি চাষের উপযোগী। তাই প্রতিবছর কোনো না কোনো প্রকার আগাম সবজির চাষ করে থাকে জেলার কৃষকেরা। চলতি বছর বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হওয়ায় অসময়ে শিমের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে।

গ্রামের মাঠে দিকে তাকালে দেখা যায় আবাদযোগ্য জমিজুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪-৫ ফুট উচু বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চ ফলনশীল অটো জাতের শিম। শিম চাষ এলাকাটিকে সাজিয়েছে সবুজের আবরণে। বিকেল হলেই চাষিরা তাদের পরিবারের লোকজন নিয়ে শিমের পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। কারণ বিকালের দিকে শিমের পরিচর্যার উপযুক্ত সময়।

বিভিন্ন গ্রামের শিমচাষিরা জানান, কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করে আসছি। এ আবহাওয়ায় শিমের ফলন যেমন ভালো হয়েছে তেমনি বাজার দরও বেশ ভালো। প্রথমে কম জমিতে শিম চাষ করতে করতে চাষিরা এখন ব্যাপক হারে শিম আবাদ করেছে। প্রতিবছর শিম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে চাষিরা। এভাবে ধীরে ধীরে শিম বরবটি, বেগুন, ধনিয়াপাতা, ফুল কপি, আর কাকরোলসহ নানা জাতের শাক সবজির আবাদ এলাকার চাষিরা বেছে নিয়েছে জীবন জীবিকার অবলম্বন হিসেবে। চাষিরা আরো জানান, গত বছরের ন্যায় এ বছর জমিতে অটো জাতের শিম চাষ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি বিঘা প্রতি একলাখ টাকা করে শিম বিক্রি করতে পারবো। এরই মধ্যে কয়েক মণ শিম বিক্রি করে ফেলেছি। শেষ পর্যন্ত এ পরিস্থিতি থাকলে বিঘা প্রতি কমপক্ষে আড়াই থেকে ১ লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারব বলে আশা রাখছি।

কৃষি কর্মকর্তা জানান, এ জেলার জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ভুট্টার পরপরই চাষিরা শিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে থাকে। সবজি চাষের ব্যাপারে চাষিরা বেশ অভিজ্ঞ। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে এলাকার চাষীদের উন্নত কৃষি প্রযুক্তির আওতায় আনতে পারলে শিমসহ সবজি চাষ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভালো ভূমিকা রাখবে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার পরামর্শ ও সহযোগিতার দ্বার খোলা রয়েছে। আর অটো জাতের শিম এটা মানুষের দেয়া নাম।

"