পোকায় খাচ্ছে খুলনার সরকারি গুদামের ৯৭ কোটি টাকার গম!

প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাহ আলম, খুলনা

পোকায় খাচ্ছে খুলনার সরকারি খাদ্য গুদামের গম। ফলে খাদ্যের অনুপযোগী হচ্ছে গুদামের গম। নগর ও জেলার ১০টি সরকারি খাদ্য গুদামে রক্ষিত ৩৪ হাজার টন গমেই পোকার আক্রমণ হয়েছে। গুদামে মজুদকৃত গমের বাজার মূল্য ৯৬ কোটি ৭৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি গমের খুচরা মূল্য ২৮ টাকা।

খাদ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতি মাসে কীটনাশক ব্যবহার করা হলেও প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে মজুদকৃত গম খাওয়ার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। গম বিতরণের কোনো খাত খুঁজে পাচ্ছে না খাদ্য অধিদফতর।

গত ছয় মাস ধরে প্রতি মাসে জেলা খাদ্য অফিস এমন তথ্য খাদ্য অধিদফতরকে অবহিত করছেন। কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদাম ও উপজেলা খাদ্য গুদাম থেকেও প্রতি মাসে এমন তথ্য জানানো হচ্ছে জেলা খাদ্য অফিসকে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। মজুদকৃত এ গম গত বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামের ব্যবস্থাপক শেখ আনোয়ারুল করিম জানান, খাদ্য অধিদফতরের নির্দেশ না থাকায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। মজুদকৃত গম গত বছর রাশিয়া থেকে আমদানি করা হয়। গমে পোকার আক্রমণের বিষয়টি জেলা খাদ্য অফিসকে প্রতিমাসে জানানো হচ্ছে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারি কোন নির্দেশনা না থাকায় এবং কোন খাত খুঁজে না পাওয়ায় মজুদকৃত গম বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ওএমএস’র মাধ্যমে প্রতিমাসে ১ হাজার মেট্টিক টন এবং বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ৬৭৫ মেট্টিক টন গম বিতরণ করা হচ্ছে। ৭৮ জন ডিলার প্রতিদিন ১ মেট্টিক টন আটা বিক্রি করতে পারে না। দীর্ঘদিন মজুদ থাকায় গমে পোকার আক্রমণ হয়েছে।

জেলার দশ গুদামে ৩৪হাজার ৫৬৯ মেট্টিক টন আমদানিকৃত গম মজুদ রয়েছে। খাদ্য অধিদপ্তরে পাঠানো জেলা খাদ্য অফিসের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বছরের শেষ দিকে মংলা বন্দরের মাধ্যমে ৪০ হাজার মেট্টিক টন গম খুলনার দশ গুদামে মজুদ করা হয়। ইতোমধ্যে সেনাবাহিনী, নৌ-বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার ব্রিগেড, জেলখানায় ছয় হাজার মেট্টিক টন বিতরণ করা হয়েছে। দশ গুদামে গত রোববার পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৫৫৯ মেট্টিক টন মজুদ রয়েছে। সব চেয়ে বেশি মজুদ বয়রাস্থ খুলনা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে। এখানে ১৬ হাজার মেট্টিক টন এবং মহেশ্বরপাশা কেন্দ্রীয় খাদ্য গুদামে ১২ হাজার মেট্টিক টন মজুদ রয়েছে। বাকি গম উপজেলা পর্যায়ের আট গুদামে মজুদ রয়েছে।

জেলা খাদ্য অফিসের সূত্র জানান, রাশিয়া থেকে আমদানি করা লাল রংয়ের গমকে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য প্রিমিথাইল ও এগ্রিফস নামের কীটনাশক ব্যবহার করা হচ্ছে।

"