গ্রীষ্মকালীন পালংশাক উৎপাদনে সাফল্য পেয়েছেন ফরিদপুরের বাচ্চু

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

কে এম রুবেল, ফরিদপুর

পালংশাক শীতকালীন সবজি হলেও গ্রীষ্মকালে চাষ করে সাফল্য পেয়েছে ফরিদপুরের কৃষক বাচ্চু মোল্যা। চলতি বছর গ্রীষ্মকালে উন্নতজাতের পালংশাক চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই কৃষক। আশেপাশের কৃষকরা আসছেন বাচ্চু মোল্যার পালংশাক খেত দেখতে। আর কৃষি বিভাগ বলছে সবজি উৎপাদনে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়। আর বাচ্চু মোল্যা বলেছেন, সরকারি সহযোগিতা পেলে আগামীতে আরো নতুন নতুন জাতের সবজি উপহার দিতে পারবেন।

ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বিলমামুদপুর গ্রামের বাচ্চু মোল্যা। চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে উঁচু জমিতে বাস ও পলিথিনের শেড তৈরি করে উন্নত জাতের গ্রীষ্মকালীন পালং শাক চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন। বীজ বপনের ২০-২৫ দিনের মাথায় পালং শাক বাজারে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। পালং শাকের পাশাপাশি লাউ ও গ্রীষ্মকালীন টমেটোরও চাষ করেছেন বাচ্চু মোল্যা। কৃষক বাচ্চু মোল্যা জানান, বর্তমানে এক কেজি পালংশাক বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। আর শীতকালে এক কেজি পালংশাক বিক্রি হয় ১০-১৫ টাকা। অধিক লাভের আশাতেই অনেক কৃষক গ্রীষ্মকালীন পালংশাকের দিকে ঝুঁকছে। তিনি আরো বলেন, ঘর তৈরি থেকে শুরু করে মোট খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। এখানে উৎপাদিত পালংশাক বিক্রি হবে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায়। বাচ্চু মোল্যা আরো জানান, পালংশাক উৎপাদনে তিনি কোনো প্রকার রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেননি। শুধু জৈব সার ব্যবহার করা হয়েছে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে। বিলমামুদপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল মল্লিক বলেন, গ্রীষ্মকালে পালং শাক চাষ করে অধিক লাভবান হচ্ছেন বাচ্চু মোল্যা। আগামীতে তিনিও গ্রীষ্মকালীন পালংশাক চাষ করবেন বলেও জানান।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবুল বাসার মিয়া বলেন, বাচ্চু মোল্যা একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সব সময় কৃষিতে নতুনত্ব যোগ করেন। এরআগে দীর্ঘ পাঁচ বছর গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে ফরিদপুর জেলায় সাড়া ফেলেছিলেন। চলতি মৌসুমে পালংশাক উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আমরাও বাচ্চু মোল্যাকে প্রদর্শনী প্লট, সার ও বীজ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর, ফরিদপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, নিরাপদ সবজি উৎপাদনের ক্ষেত্রে চাষিদের আমরা প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।

"