হাজীগঞ্জে মৃত্যুঝুঁকিতে পাঁচ শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী

মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত দুইটি ভবনে পাঠদান

প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

দুই বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ দুটি একাডেমিক ভবনে চলছে নিয়মিত পাঠদান। এতে মৃত্যুর ঝুঁকিতে প্রতিদিন ক্লাস করছে পাঁচশতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী। উপজেলার গর্ন্ধব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের ৮৬নং মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অবস্থা। যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে ব্যাপক প্রাণহানীর আশংকা করছেন অভিভাবক, এলাকাবাসী ও স্থানীয়রা।

১৯৩৫ সালে মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮৮ সালে ৩ রুম বিশিষ্ট একটি টিনশেড ভবন, ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে ২ রুম বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন এবং ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে চার রুম বিশিষ্ট একটি একতলা একাডেমিক ভবন করা হয়। এরমধ্যে ১৯৯৮ ও ১৯৯৪-৯৫ অর্থ বছরে নির্মিত ভবন দুটি ২০১৬ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা শিক্ষা বিভাগ। অথচ ২০১৭ সালে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক সমাপনী পরিক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকেই ৩৪ জন জিপিএ ৫ এবং ৬ জন বৃত্তি লাভ করে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, পাঁচ শতাধিক শিশুর কলকাকলি আর ৮ শিক্ষকের পদচারণায় সার্বক্ষণিক মুখরিত থাকে বিদ্যালয়টি। পরিত্যক্ত ভবন দুটির পিলারগুলো ও বিম থেকে ইট-সুরকির ঢালাই খসে পড়ে ভেতরের রড দেখা যাচ্ছে। কয়েকটি পিলার থেকে ইট-সুরকি খসে পড়ে চিকন (সরু) হয়ে গেছে। দেয়ালে ফাটল রয়েছে, রড বেরিয়ে গেছে। ভেতরের কক্ষগুলোর দেয়াল এবং ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দরজা-জানালা ভেঙ্গে পড়েছে। ওপরের সিলিং ও টিনের চালাও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলে টিন এবং ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। গত বছর এলাকাবাসী এবং এ বছর ক্ষুদ্র সংস্কারের টাকা দিয়ে টিনের চালার উপরে ত্রিপাল সাঁটানো হয়েছে।

অপর ভবনটির চারটি কক্ষের মধ্যে একটিতে প্রাক-প্রাথমিক, একটিতে অফিস, ছোট একটি কক্ষে সততা স্টোরসহ আনুসাঙ্গিক মালামাল রাখা হয়েছে। রয়েছে মাত্র একটি কক্ষ। যেখানে ৫ শ্রেনীর ক শাখার (প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী) শ্রেনীকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। থেকে যাচ্ছে সাড়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী। তারা বসবে কোথায়। তাই বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবন দুটিতে পাঠদান করা হচ্ছে।

একদিকে পরিত্যক্ত ভবনে পাঠদান, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী হওয়ায় ক্লাসে ঠাসাঠাসি করে বসতে হচ্ছে। দুই শিফটের স্কুল হওয়ায় সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নিতে হিমশিম খাচ্ছেন শিক্ষকরা। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভূমির বুকের উপর দিয়ে ইউনিয়নের মূল সড়ক (এলডিইডি’র সড়ক) থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা প্রায় সময় দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আব্দুর রহমান নামের একজন অভিভাবক জানান, নিরুপায় হয়ে আমরা বাচ্চাদের এখানে পড়াচ্ছি। সবসময় আতঙ্কের মাঝে থাকি, না জানি কখন দূর্ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবু ছাদেক স্বীকার করেন, জরাজীর্ণ পরিত্যাক্ত ভবন দুটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের পাঠদান করাতে যেমনি পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।

পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ডা. মমতাজ উদ্দিন ও অভিভাবক সদস্য সেকান্তর আলী (স্থানীয় ইউপি সদস্য) জানান, দুই বছর আগে ভবন দুইটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনো নতুন ভবন করা হয়নি। তাছাড়া বিদালয়ের সম্পত্তির মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের রাস্তা (এলজিইডি সড়ক)। এতে শিশুরা ঠিকমতো খেলতে পারে না। প্রায় সময় দূর্ঘটনার শিকার হতে হয় তাদের। তাই রাস্তাটি বিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে নেয়া প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আবুল খায়ের মজুমদার জানান, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ভবন দুটি পূর্ণ:নির্মান এবং রাস্তাটি বিদ্যালয়ের সম্পত্তি থেকে দ্রুত সরিয়ে নেয়া প্রয়োজন। জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য দেয়া আছে। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে।

এদিকে রাস্তা সরানোর বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব অধ্যাপক আবদুর রশিদ মজুমদার বলেন, এলজিইডি’র সড়কটি ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আমি স্থানীয় সরকার বিভাগের সাথে কথা বলেছি। এটি সরিয়ে নিতে হলে মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হবে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি সরানোর কাজ আমরা করছি।

"