ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ

সভাপতি ও সম্পাদকেই দেড় বছর পার!

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলতি কমিটি অবৈধ

প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

এ আর রাশেদ, ইবি

সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক দিয়েই চলছে ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রলীগ। চলতি কমিটির মেয়াদ ছয় মাস আগে শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের ভ্রুক্ষেপ নেই দুই নেতার। ফলে দলীয় কাজ থেকে বিমুখ হয়ে পড়েছে পদপ্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা। এতে বেড়েছে অনুপ্রবেশকারী নেতাদের দৌরাত্ম। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ি কয়েক মাস আগেই এই কমিটি বৈধতা হারিয়েছে।

গত বছর ৬ এপ্রিল আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ছাত্র লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এম সাইফুর রহমান সোহাগ ও সম্পাদক জাকির হোসেনের উপস্থিতিতে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৮ম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১৫ এপ্রিল বাংলা বিভাগের ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহিনুর রহমান শাহিনকে সভাপতি এবং একই বিভাগের ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা হালিমকে সাধারণ সম্পাদক করে এক বছরের জন্য কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃত্বকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সম্মেলনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে দুই নেতার রাজত্ব। কমিটির মেয়াদ একবছর ছয় মাস পূর্ণ হলেও সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাড়া কোন নেতা নেই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের। এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ পদ প্রত্যাশী নেতাকর্মীরা। পদ-পদবী না পেয়ে সংগঠনটির সিনিয়র নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। তবে সভাপতি-সম্পাদক বারবার আশ্বাস দিয়েও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন পদ প্রত্যাশি নেতা কর্মীরা।

ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র ১০-এর (খ) ধারায় অনুযায়ি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জেলার মর্যাদা পাবে। আর জেলা শাখার কার্যকাল এক বছর। মেয়াদ শেষে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় অনুমতি সাপেক্ষে ৯০ দিন সময় বৃদ্ধি করা যাবে। আর এই সময়ের মধ্যে সম্মেলন না হলে জেলা কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। সে ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ আহ্বায়ক বা এডহক কমিটি গঠন করে ৯০ দিনের মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদপ্রত্যাশী এক ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘গঠনতন্ত্র মানছে না ইবি ছাত্রলীগ। আর কেন্দ্রীয় নেতারা সেটা অবগত হয়েও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না দেওয়ায় আমরা আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভুগছি। এছাড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় ত্যাগী নেতারাও ক্যাম্পাস বিমুখ হয়ে চলে যাচ্ছে।’

এদিকে গঠনতন্ত্র অনযায়ী ইবি ছাত্রলীগের কমিটির মেয়াদ প্রায় ছয় মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। এক বছরের দেড় বছর পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি না হওয়ায় খোদ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে কমিটির বিষয়ে বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে। তারা পূর্ণাঙ্গ কমিটির বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রে বারবার ধরণা দিচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্রলীগ নেতা জানান, সেপ্টেম্বরের ২য় সপ্তাহে সভাপতি-সম্পাদক কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতে যান। এসময় তারা এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ওই সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করতে না পারলে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করার হুশিয়ারি দেন।

গত কমিটির যুগ্ম- সম্পাদক আতাউর রহমান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘যে কোন সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি হল নেতা-কর্মীরা। দেড় বছর পরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি এটা খুবই দুঃখজনক। দল চাঙ্গা রাখার জন্য পূর্ণাঙ্গ কমিটি জরুরি। আমি আশা করি কেন্দ্রীয় নেতারা এদিকে দৃষ্টি দিবেন।’

বারবার কেন্দ্রীয় নির্দেশনা থাকলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটির গঠনে বর্তমান সভাপতি-সম্পাদকের তৎপরতা না থাকায় কেন্দ্রীয় সংসদের এক নেতাকে দায়িত্ব দিয়ে গত বছরের ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই কেন্দ্রীয় নেতা একবারের জন্যও ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ে আসেননি বলে জানান পদপ্রত্যাশী কর্মীরা।

ইবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে জানান, ‘পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কার্যক্রম শেষের দিকে। আশা করছি খুব শিঘ্রই কমিটি প্রকাশ করা হবে।’ তবে কতদিনের মধ্যে কমিটি পূর্ণাঙ্গ হবে সে বিষয়ে তারা নিদিষ্ট করে কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজওয়নুল ইসলাম চৌধুরী শোভন ও সম্পাদক গোলাম রব্বানীর ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তা রিসিভ করেন নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

"